মালয়েশিয়ার সাবেক সেনাপ্রধানসহ চার্জ ধরে অভিযান

মালয়েশিয়ার সাবেক সেনাপ্রধানসহ চার্জ ধরে অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মালয়েশিয়ার সাবেক সেনাপ্রধান মোহাম্মদ হাফিজউদ্দিন জানতান এবং তার দুই স্ত্রীকে সামরিক ক্রয় প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি) আটক করেছে। আটক কার্যক্রমটি বুধবার সম্পন্ন হয় এবং বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার আজম বাকি জানান, সামরিক ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের তদন্তের অংশ হিসেবে হাফিজউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। এমএসিসি কর্মকর্তারা স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রেখে এই মামলার তদন্ত চালাচ্ছেন।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও তার পরিবারের ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। প্রধান অনুসন্ধান সূত্রে দেখা যায়, একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য এসেছে, যা এই অনুসন্ধান কার্যক্রমের সূচনা করেছে। দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার পর গত ডিসেম্বরে হাফিজউদ্দিনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়।

সরকারি সংবাদ সংস্থা বেরনামা জানিয়েছে, এমএসিসি প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত বা ৫ লাখ ৯১ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ নগদ অর্থ পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে। বুধবার একজন ব্যক্তি এই বিপুল অর্থ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের সময় আটক হন।

এই মামলার প্রসঙ্গে আরও একজন দম্পতিকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে মামলার সংবেদনশীলতার কারণে তদন্তাধীন অনেক তথ্য এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন এই আর্থিক কেলেঙ্কারির গভীরতা নিরূপণে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাবেক সেনাপ্রধানের মতো শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ দেশটির বিচার ব্যবস্থার কঠোরতা প্রতিফলন করছে।

আজম বাকি স্পষ্ট করেছেন যে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার সামরিক বাহিনীর ক্রয় প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ