জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উদযাপনে কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশ

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উদযাপনে কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশ

বাংলাদেশ ডেস্ক

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) মাউশি থেকে পাঠানো এক সরকারি চিঠিতে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেন মাউশির সহকারী পরিচালক মো. খালিদ হোসেন। এতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারকের আলোকে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সময়সূচি সংযুক্ত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হলো। নির্দেশক্রমে উক্ত সময়সূচি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উদযাপনের নীতিমালা অনুযায়ী ৪ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। স্মারকে আরও জানানো হয়, এই সময়কালে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত কার্যক্রমের তথ্য নির্ধারিত ই–মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন নীতিমালা অনুসরণ করে উপজেলা, থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেষ্ঠত্ব–সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়মিতভাবে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবছর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং মাউশির সমন্বয়ে দেশব্যাপী উদযাপিত হয়ে থাকে। শিক্ষা খাতে গুণগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক–কর্মকর্তাদের মেধা ও দক্ষতার স্বীকৃতি প্রদান, সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহ সৃষ্টি এবং শিক্ষা প্রশাসনের সক্ষমতা মূল্যায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে এই আয়োজন পরিচালিত হয়। ২০২৬ সালের কার্যক্রমও একই উদ্দেশ্যে বাস্তবায়িত হবে বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন নীতিমালা অনুসারে, প্রতিদিনের কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ ও পাঠানোর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় টিম গঠন করতে বলা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি, একাডেমিক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল আয়োজন, শিক্ষক–প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন, শ্রেণি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, কুইজ, বিতর্ক, রচনা, ক্রীড়া ও মাল্টিমিডিয়া–ভিত্তিক উপস্থাপনা, উদ্ভাবনী কার্যক্রম প্রদর্শনসহ শিক্ষা সপ্তাহ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত সব আয়োজন যথাযথভাবে পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সময়কালে যে সকল শ্রেষ্ঠত্ব–সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও পাঠাতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে—উপজেলা, থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী, শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান, শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শ্রেষ্ঠ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষা–প্রশাসন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য। চিঠিতে “ইত্যাদি” হিসেবে উল্লেখ থাকলেও সরকারি নীতিমালার আলোকে এর আওতায় সহশিক্ষা কার্যক্রম, পাঠদানে উদ্ভাবনী পদ্ধতি, শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমতা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ফলাফল বিশ্লেষণ, শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি ও সমতা নিশ্চিতকরণ–সংশ্লিষ্ট সূচক, এবং শিক্ষা–পরিবেশ উন্নয়ন–সংশ্লিষ্ট তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে।

ই–মেইলে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনার পেছনে মূলত কেন্দ্রীয়ভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সমন্বয় নিশ্চিতকরণ, এবং জাতীয় পর্যায়ের মূল্যায়ন কাঠামো প্রস্তুতের উদ্দেশ্য কাজ করে। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা সপ্তাহে প্রাপ্ত তথ্য পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার ও স্বীকৃতি প্রদানের জন্য মূল্যায়ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা–প্রশাসনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দক্ষতার মান, এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে নীতিমালা অনুসরণের ধারাবাহিকতাও যাচাই করা সম্ভব হয়।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন নীতিমালা প্রথম প্রণয়ন করা হয় ২০১০ সালের দিকে। এরপর বিভিন্ন সময় বাস্তবতার আলোকে এটি হালনাগাদ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের কার্যক্রম পুনর্নির্ধারণ–সংক্রান্ত স্মারক অনুযায়ী এবারের আয়োজনে প্রযুক্তি–ভিত্তিক কার্যক্রম ও তথ্য সংগ্রহে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য সাধারণত শিক্ষা খাতে উদ্ভাবন, পাঠদানে আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও নৈতিক বিকাশ–সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হলেও মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা মাউশি আগামভাবে প্রেরণ করেছে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারে।

চিঠিতে সরাসরি কোনো বেতন কাঠামো–সংক্রান্ত তথ্য না থাকলেও ব্যবহারকারীর পাঠানো খসড়ায় নবম পে–স্কেল–সংক্রান্ত একটি লাইন ছিল, যা বিজ্ঞাপন বা প্রাসঙ্গিক তথ্য না হওয়ায় সংবাদ কাঠামোর আওতায় রাখা হয়নি। জাতীয় দৈনিকের সংবাদ মানদণ্ড অনুসারে প্রতিবেদনে কেবল মূল বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়, এরপর উপজেলা/থানা পর্যায়ে বাছাই, জেলা পর্যায়ে মূল্যায়ন, বিভাগীয় পর্যায়ে চূড়ান্তকরণ এবং সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার ও স্বীকৃতি প্রদান আয়োজন সম্পন্ন হয়। মাউশির চিঠির নির্দেশনার আলোকে ধারণা করা যায়, উপজেলা থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। এরপর জাতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম পুনর্নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষা–প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে অধিদপ্তরের পক্ষে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ সহজ হবে এবং জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অধিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। শিক্ষা সপ্তাহের কার্যক্রম মূলত শিক্ষা খাতে প্রণোদনা সৃষ্টি ও গুণগত মান উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

চিঠিতে উল্লেখিত নির্দেশনার আলোকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উদযাপন নীতিমালা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা, তথ্য সংরক্ষণ, সমন্বয় নিশ্চিতকরণ এবং নির্ধারিত ই–মেইলে প্রতিদিনের কার্যক্রম–সংক্রান্ত তথ্য পাঠানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ