নির্বাচনে বাতিল প্রার্থিতা: ৪ দিনে ৪৬৯ আপিল জমা

নির্বাচনে বাতিল প্রার্থিতা: ৪ দিনে ৪৬৯ আপিল জমা

রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়া প্রার্থিতা পুনর্বহালের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গত চার দিনে মোট ৪৬৯টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানায়, আপিল জমা দেওয়ার শেষ সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি)। আপিল গ্রহণ শেষ হওয়ার পর শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে শুরু হবে আপিল শুনানি কার্যক্রম, যা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন ৭০টি করে আপিল আবেদনের শুনানি করা হবে। কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, আবেদনকারীদের যুক্তি ও নথি পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

ইসি সূত্রে আরও জানা যায়, আপিল আবেদন জমা পড়ার সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়েছে। প্রথম দিন ৪২টি, দ্বিতীয় দিন ১২২টি, তৃতীয় দিন ১৩১টি এবং চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার ১৭৪টি আবেদন জমা পড়ে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রার্থিতা বাতিলের পরপরই প্রার্থীরা ইসিতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় হন এবং শেষ সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আপিলের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থিতা বৈধ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন। এ সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারেন। নির্বাচনী আইনে এই আপিল প্রক্রিয়া প্রার্থীদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা নির্বাচনে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ভুল বা অসঙ্গতি সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে।

নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিলের উচ্চ সংখ্যা ইঙ্গিত দেয়—মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী অসন্তুষ্ট এবং প্রক্রিয়াগত বা নথিগত ত্রুটির বিষয়গুলো নিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে। মনোনয়নপত্র বাতিল সাধারণত ঋণখেলাপি, আয়কর সংক্রান্ত নথির ঘাটতি, তথ্য গোপন, দ্বৈত নাগরিকত্ব, স্বাক্ষর বা সমর্থক তালিকায় অসঙ্গতি, কিংবা প্রস্তাবক-সমর্থকের যোগ্যতা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। তবে আপিল শুনানির মাধ্যমে প্রার্থীরা অতিরিক্ত নথি উপস্থাপন, ব্যাখ্যা প্রদান এবং আইনগত যুক্তি তুলে ধরে প্রার্থিতা পুনর্বহালের সুযোগ পান।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১০–১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সীমায় আপিল শুনানি শেষ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আপিল নিষ্পত্তির পর বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ এবং প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে, যা নির্বাচনী তফসিল বাস্তবায়নের একটি অপরিহার্য ধাপ। আপিল নিষ্পত্তির ফলাফল নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা, দলীয় প্রতিযোগিতা এবং নির্বাচনী মাঠের ভারসাম্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসি ইতোমধ্যে শুনানি ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রতিদিন নির্ধারিত ৭০টি আপিলের শুনানি করতে কমিশন একাধিক বেঞ্চ গঠন করবে এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই, প্রার্থীর বক্তব্য গ্রহণ, আইনি পর্যালোচনা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হবে। শুনানির কার্যক্রম যাতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনে আপিল শুনানির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, আবার অনেকের আবেদন বাতিলও হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আপিল নিষ্পত্তির এই ধাপটি নির্বাচন-পূর্ব আইনি প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নির্বাচনকে আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

আপিল শুনানি শুরুর আগে ইসি সচিবালয় থেকে আবেদনগুলো ক্রমানুসারে প্রস্তুত করা হবে, শুনানির নোটিশ প্রদান এবং প্রার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুনানি শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় কমিশনের ওপর কাজের চাপ বৃদ্ধি পেলেও প্রশাসনিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সময়মতো আপিল নিষ্পত্তি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর নির্বাচনী পরিবেশ আরও স্পষ্ট রূপ নেবে এবং নির্বাচনী প্রচার-প্রতিযোগিতার মূল পর্বে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সংখ্যা চূড়ান্ত হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পরবর্তী সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক ধাপ বাস্তবায়নে প্রবেশ করবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ