প্রবাসীদের কাছে ৭.৭ লাখ পোস্টাল ব্যালট পাঠানো সম্পন্ন

প্রবাসীদের কাছে ৭.৭ লাখ পোস্টাল ব্যালট পাঠানো সম্পন্ন

প্রবাস ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে বিশ্বের ১২১টি দেশে বসবাসরত ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৮ জন নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নিবন্ধনকারী সব প্রবাসী ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট প্রেরণ শেষ হয়েছে।

ডাক বিভাগের এয়ারপোর্ট সর্টিং অফিসের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতেই বহির্বিশ্বে সব পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ইসির কাছ থেকে পাওয়া ব্যালটগুলো নির্ধারিত এয়ারলাইনসের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে প্রেরণ করেছে। ব্যালট পরিবহনে ব্যবহার করা হয়েছে— বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এমিরেটস, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও সৌদিয়া এয়ারলাইনস। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর কার্গো ও মেইল পরিবহন ব্যবস্থার আওতায় দ্রুততম সময়ে ব্যালট পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ডাক বিভাগ জানিয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই এসব ব্যালট গন্তব্য দেশগুলোর স্থানীয় ডাক নেটওয়ার্কে প্রবেশ করবে এবং প্রবাসী ভোটাররা তা গ্রহণ করতে পারবেন।

‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত এই কার্যক্রমে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি যুক্ত ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন) এবং ব্যালট পরিবহনে নিযুক্ত এয়ারলাইনসগুলো। বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত পরিকল্পনা, কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার, এয়ারপোর্ট সর্টিং ও আন্তর্জাতিক মেইল লজিস্টিকস ব্যবস্থার মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরের এই পোস্টাল ভোটিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজারের বেশি ভোটার ব্যালট গ্রহণের জন্য সঠিক বা সম্পূর্ণ ঠিকানা প্রদান করেননি। ফলে সেসব ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো সম্ভব হয়নি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ঠিকানা সংক্রান্ত ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে আন্তর্জাতিক ডাক নেটওয়ার্কে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং বিতরণ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনের সময় সঠিক ঠিকানা, পোস্টাল কোড, শহর, অঞ্চল এবং প্রাপকের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরেও ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এই ক্যাটাগরির ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কার্যক্রম আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে। ইসি জানিয়েছে, দেশের ভেতরে ব্যালট পাঠানো, ভোটার কর্তৃক তা পূরণ এবং পুনরায় রিটার্ন মেইলে কমিশনে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়ায় আনুমানিক সাত দিন সময় লাগতে পারে। ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ সর্টিং, থানা/উপজেলা পর্যায়ের বিতরণ নেটওয়ার্ক, রিটার্ন মেইল কালেকশন ও এয়ারপোর্ট রিটার্ন চেইনসহ পুরো পোস্টাল ভোটিং সাইকেলের গড় সময়সীমা বিবেচনায় এই অনুমান করা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতেই সর্বশেষ চালানে ৯১টি দেশে ৩৯ হাজার ৩৮ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ১২১টি দেশের প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট প্রেরণের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ডাক লজিস্টিকস ব্যবস্থায় এত বিপুল সংখ্যক ব্যালট প্রেরণ বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় লজিস্টিকস পরিকল্পনাও ওই অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়। মালয়েশিয়ায় ৮৪ হাজার ১৭৪ জন, কাতারে ৭৫ হাজার ৮৬৯ জন এবং ওমানে ৫৬ হাজার ৬৩ জন প্রবাসী ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও ব্যালট পাঠানো হয়েছে ইসির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী।

ইসির ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ–ভিত্তিক নিবন্ধন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন প্রবাসী এবং ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটার। অ্যাপ–ভিত্তিক এই নিবন্ধন ব্যবস্থা ভোটার পরিচয় যাচাই, আবেদন ট্র্যাকিং, ঠিকানা সংরক্ষণ, ব্যালট স্ট্যাটাস আপডেট এবং রিটার্ন মেইল মনিটরিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইসি জানিয়েছে, ব্যালটে ভোট প্রদান ও তা সিলগালা করার পর গোপনীয়তা রক্ষার দায় ভোটারের ওপর বর্তায়। ইসি আরও জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা লঙ্ঘন, ভোট প্রকাশ, ব্যালটের ছবি প্রচার বা ভোট প্রদান সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সাময়িকভাবে ব্লক করা হতে পারে। এনআইডি ব্লকিংয়ের মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভোটার তথ্য সুরক্ষা ও নির্বাচনি গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হয়, যা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় পরিচালিত হয়।

ইসি ও ডাক বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ব্যালট পরিবহন ও বিতরণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মেইল চুক্তি, এয়ারপোর্ট হ্যান্ডলিং প্রটোকল, কার্গো স্ক্রিনিং, কূটনৈতিক ব্যাগেজ সহায়তা, এয়ারলাইন মেইল রিজার্ভেশন স্লট, আইএটিএ মেইল লেবেলিং স্ট্যান্ডার্ড, ইউপিইউ পোস্টাল কোড ম্যাপিং, দেশভিত্তিক সর্টিং প্ল্যান, রিটার্ন মেইল বারকোড ট্র্যাকিং এবং ব্যালট ব্যাগ সিল প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছে।

এই কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপে প্রবাসী ও অভ্যন্তরীণ ভোটারদের কাছ থেকে রিটার্ন মেইলে ব্যালট গ্রহণ, যাচাই, সংরক্ষণ, গণনা, বাতিল ব্যালট নির্ধারণ, বৈধতা পরীক্ষা এবং ফল সমন্বয়ের কাজ পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পোস্টাল ভোটিং সেল। ব্যালট গণনার সময় পোস্টাল ভোটিং বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত এনভেলপ সিগনেচার, সিকিউরিটি কোড, সিল, ভোটারের ঘোষণা ফরম, পোস্টাল স্ট্যাম্প, রিটার্ন টাইমস্ট্যাম্প এবং অ্যাপ–ভিত্তিক নিবন্ধন লগ মিলিয়ে ব্যালটের বৈধতা যাচাই করা হবে।

প্রবাস শীর্ষ সংবাদ