উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীরা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ

উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীরা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা প্রার্থীদের বড় অংশের চেয়ে বেশি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও হলফনামা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোট বৈধ ঘোষিত ১ হাজার ৮৪২ প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩৯৮ জন বা ৭৫ দশমিক ৯ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। এর মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ৫২২ জন (২৮ দশমিক ৩ শতাংশ) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ৮৭৬ জন (৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ) রয়েছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির ২৫৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০০ জন স্নাতকোত্তর ও ৫৭ জন স্নাতক ডিগ্রিধারী, যা মোট প্রার্থীর ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বিএনপির ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৩৫ জন স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী, যা দলের মোট প্রার্থীর ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২২৬ প্রার্থীর মধ্যে ১৭১ জন বা ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। জাতীয় পার্টির ১৪৭ প্রার্থীর মধ্যে ৮২ জন (প্রায় ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ) উচ্চশিক্ষিত। গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতের হার যথাক্রমে ৫৯ ও ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ১১৮ জনের মধ্যে ৯২ জন বা ৭৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত।

উচ্চমাধ্যমিক পাস প্রার্থী রয়েছেন ১৭৪ জন (৯ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক পাস ১১১ জন (৬ দশমিক ১ শতাংশ)। এছাড়া ১৫৯ জন প্রার্থী বা মোটের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিকের কম বা ‘স্বশিক্ষিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুযায়ী, মোট ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে জমা পড়ে ২ হাজার ৫৬৮টি। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি ও অন্যান্য দলভিত্তিক প্রার্থীর পাশাপাশি ৪৭৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।

শিক্ষাবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চশিক্ষার উপস্থিতি সংসদ কার্যক্রমের দক্ষতার নিশ্চয়তা নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর মধ্যেও দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িতরা রয়েছে। তার মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা ও সততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, সংসদ নির্বাচনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রার্থীর উপস্থিতি একটি ইতিবাচক দিক হলেও আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজন প্রজ্ঞা ও বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের উপস্থিতি। তিনি বলেন, এখন এমএ পাস করেও মানুষ ছোট চাকরির জন্য লাইন ধরে থাকেন, তাই শিক্ষাগত যোগ্যতা একমাত্র মানদণ্ড নয়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। তবে গত বছর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের পর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক ডিগ্রিধারী হওয়ার দাবি নিয়ে আবেদন করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহউদ্দিন রিগ্যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন।

সংক্ষিপ্তভাবে, চলমান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা প্রার্থীদের বড় অংশকে আচ্ছাদিত করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতা একমাত্র মানদণ্ড নয়; দক্ষতা, সততা এবং দেশের জন্য কাজ করার মনোভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ