জাতীয় নির্বাচনে একপক্ষীয় হওয়ার আশঙ্কা, সহিংসতা রোধে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান চরমোনাই পীরের

জাতীয় নির্বাচনে একপক্ষীয় হওয়ার আশঙ্কা, সহিংসতা রোধে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান চরমোনাই পীরের

খুলনা — জেলা প্রতিনিধি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে একপক্ষীয় নির্বাচনের সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনার জামিয়া রশিদীয়া গোয়ালখালী মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে খুলনা মহানগর ও জেলা ইসলামী আন্দোলনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

চরমোনাই পীর বলেন, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই একটি দুষ্ট চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে, যারা ভীতি এবং সহিংসতার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

তিনি প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুনি ও সন্ত্রাসী চক্রের ওপর কড়া নজরদারি রাখা জরুরি। এ ছাড়া সহিংস ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। চরমোনাই পীরের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ভূমিকা পালন করলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। ভোটাররা যাতে নিরপেক্ষ ও নিরাপদ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সকলকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এমন সতর্কবার্তা রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সামনে আনে। তারা উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বাচনের সময় সহিংসতা রোধ এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

খুলনার মতবিনিময় সভায় জেলা ও মহানগর ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে সকল স্তরের জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

চরমোনাই পীরের এই বক্তব্য দেশের চলমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও ভোটাধিকার প্রয়োগের নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেছে। বিশেষ করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং ভোটারদের বিশ্বাস নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ