নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপির সংঘর্ষে ৯ জন আহত

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপির সংঘর্ষে ৯ জন আহত

রাজনীতি ডেস্ক

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা প্রদান চলছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের দরবেশ বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এনসিপির এক নেতা স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে অভিযোগ করা হয়, নদীতীরবর্তী করিম বাজার–দরবেশ বাজার এলাকার পিচঢালাই রাস্তা থেকে ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে সন্ধ্যার পর, যখন এনসিপির ওই নেতা ও তার সহযোগীরা দরবেশ বাজারে লিফলেট বিতরণ করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে এনসিপির ৭ জন ও বিএনপির ২ জন আহত হন।

এনসিপির আহতরা হলেন: চানন্দী ইউনিয়ন এনসিপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন, হাতিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেন, ছাত্রশক্তির রবিন, এনসিপি নেতা জাফের, দুলাল ও শাহাদাত। বিএনপির আহতরা হলেন সারওয়ার ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম সারু।

এনসিপি পক্ষের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চানন্দী ইউনিয়নের নদীর তীরে করিম বাজার এলাকার একটি পিচঢালাই রাস্তা কেটে ইট, বালু ও পাথর বিক্রি করছিলেন স্থানীয় বিএনপির নেতা সারোয়ার মাঝি, চানন্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সারোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রবি আলম শান্তসহ কয়েকজন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বিএনপির সশস্ত্র লোকজন এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় অন্তত ৮টি মোটরসাইকেল লুট করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দরবেশ বাজার এলাকার বালু ব্যবসায়ী জাকের ব্যাপারী ও ইঞ্জিনিয়ার তানবিরের লোকজন স্থানীয়দের দাবির ভিত্তিতে রাস্তা মেরামত করছিলেন। এ সময় এনসিপির লোকজন ভিডিও ধারণ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ান। বিএনপির অভিযোগ, প্রতিবাদ জানালে এনসিপি সমর্থিত লোকজন মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে স্থানীয়দের উত্তেজিত করে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, বর্তমানে এনসিপি নেতা নূর আলম রিপনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা সারওয়ার ও সাইফুল ইসলাম সারুকে আহত করা হয়।

হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় উপজেলা এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সংঘর্ষের কারণে এলাকার সাধারণ জীবনযাত্রা প্রভাবিত হলেও, পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ