বিএনপি ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে

বিএনপি ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে

রাজনীতি ডেস্ক

নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি দলের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ‘বিদ্রোহী’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে দুই কৌশল গ্রহণ করেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, এবং প্রয়োজন হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

দলের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, যারা স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদেরকে প্রথমে বোঝানো হচ্ছে যাতে তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন থেকে সরে যান। এ জন্য অঞ্চলভিত্তিক জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন এবং দলীয় সিদ্ধান্তের গুরুত্ব, নির্বাচনী কৌশল ও সম্ভাব্য সাংগঠনিক পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করছেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিনিয়ত তাঁদের বোঝানো হচ্ছে। এরপরও না বুঝলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া আর উপায় নেই।’ দলের নেতারা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় কারও ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না; বরং দলীয় ঐক্য বজায় রাখা ও নির্বাচনী কৌশল সফল করার জন্য সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনে চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আলোচনায় যুক্ত হতে পারেন।

দলের শীর্ষ পর্যায় এই অঞ্চলভিত্তিক আলোচনাকে বিদ্রোহীদের জন্য শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছে। এরপরও মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে ৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের সাধুবাদ জানানো হবে। তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিদ্রোহী বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটের মাঠে নেতাদের সকল কার্যক্রম দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নিয়োজিত থাকবে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ইউনিট বা কমিটিও দায়ী হবে।

সারাদেশে ১১৭টি আসনে বিএনপির ১১৯ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে কিছু প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দলীয় সূত্র বলেছে, দীর্ঘদিনের পুরনো নেতা বাদ পড়া বা স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার প্রধান কারণ।

নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে ১৬টি আসনে সমঝোতা করেছে বিএনপি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমঝোতার সাপেক্ষে মিত্র দলের প্রার্থীদের যথাযথ সহযোগিতা পাচ্ছেন না। অনেক এলাকায় বিএনপির স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয়তায় জোট প্রার্থীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। মিত্র দলের নেতারা শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন, যাতে তৃণমূলে কার্যকর সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায়।

বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, ভোলা-১ আসনে বিএনপি ছাড়ের পর বিএনপিতে যোগ দেওয়া বিভিন্ন মিত্র দলের নেতারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ভোটের মাঠে বিএনপির অবস্থান শক্তিশালী হবে। তাই দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ