স্থানীয় প্রতিনিধি
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গভীর রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার দোয়ালিয়া বড় মিজি এলাকায় বাসিন্দা সামছুন্নাহার বেগম (৭০) মারা যান। পরদিন শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তার দাফনকালে মেয়ে ফজিলাতুন্নেছা (৫০) আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ প্রধানীয়া সুমন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, ফজিলাতুন্নেছা ছিলেন নিঃসন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে মায়ের সেবা করতেন। মায়ের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর মানসিক চাপ ও আবেগের কারণে তার শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় এবং তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
প্রতিবেশী শারমিন সুলতানা বলেন, ফজিলাতুন্নেছার কোনো সন্তান ছিল না এবং মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্থানীয়রা জানান, তার মৃত্যুর পেছনে মায়ের শোক সহ্য করতে না পারা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সামছুন্নাহার বেগম ওই বাড়ির মৃত ইউনুসের স্ত্রী। তার মৃত্যু এবং পরবর্তীতে মেয়ের আকস্মিক মৃত্যু একই পরিবারের দুই সদস্যকে হারানোর ঘটনা হিসেবে দোয়ালিয়া গ্রামে তীব্র শোক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দুই পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং দাফনের সময় গ্রামজুড়ে গম্ভীর পরিবেশ বিরাজ করেছিল।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত আবেগ কখনও কখনও হৃদরোগ বা স্ট্রোকের মতো আকস্মিক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। পরিবারের একজন সদস্যের মৃত্যু আরেকজনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যারা মানসিকভাবে ক্ষীণ বা বৃদ্ধ বয়সের।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনরা মিলিতভাবে দুইজনের দাফন সম্পন্ন করেছেন। প্রথমে মায়ের দাফন সম্পন্ন হয় এবং পরে একই কবরের পাশে মেয়ের দাফন করা হয়। স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনা বিরল এবং গভীর শোকের কারণ।
দোয়ালিয়া বড় মিজি এলাকায় মা-মেয়ের একযোগে মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় সমাজে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গ্রামবাসী জানিয়েছেন, তারা এই পরিবারকে সহানুভূতি ও সহযোগিতা প্রদান করছে, পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে মেন্টাল হেলথ ও বৃদ্ধ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদানে আরও সক্রিয় হতে উৎসাহিত করছে।
এই ঘটনায় দোয়ালিয়া ও আশেপাশের এলাকায় মানসিক সচেতনতা এবং পরিবারের বৃদ্ধ সদস্যদের প্রতি যত্নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।


