রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পুরো জাতি শোকাহত। তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আপসহীন গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়। মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত তিনি স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কোনো আপস না করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর কলসি দিঘীরপাড় এলাকার জাফর আলী মালুম মসজিদে আয়োজিত দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আলোচনায় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন ও সংগ্রাম পরিচালনা করেছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নৈতিক সহায়তা ও রাজনৈতিক সাহস জুগিয়েছেন এবং আপসহীন রাজনীতির শিক্ষাও দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও খালেদা জিয়া তা গ্রহণ করেননি। সর্বশেষ দিন পর্যন্ত আপসহীন অবস্থানেই তিনি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের মশাল খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিলেন, যা তিনি তারেক রহমানের হাতে হস্তান্তর করেছেন। সেই মশালকে কেন্দ্র করে বর্তমান নেতৃত্ব ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনায় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন। দেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার সুষম বণ্টন ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা রয়েছে।
সভায় তিনি উল্লেখ করেন, আগামী দিনে রাষ্ট্রক্ষমতার সুফল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে এবং এটি দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
আলোচনা সভায় মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ. আজিজ, মহানগর বিএনপির সদস্য হাজী হানিফ সওদাগর, বিএনপি নেতা হাজী কামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ সেলিম, হাজী সালাউদ্দিন, হাজী জমির উদ্দিন, মাহবুব আলম বাচ্চু, হাজী হোসেন, আজম উদ্দিন, হাজী মোহাম্মদ জাহেদসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দলীয় নেতৃত্বের ভূমিকা ও দেশপ্রেমের দিকগুলো তুলে ধরা হয়। নেতারা বলেন, তার অবদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় থাকবে এবং দলীয় রাজনীতিতে তার দৃষ্টান্ত ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নীতিগত প্রভাব বিস্তার করবে।
এতে প্রবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যালোচকরা মন্তব্য করেছেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব বিএনপির ভিতকে সুসংহত করেছে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের স্থায়িত্ব ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক দিকনির্দেশনা দলীয় কর্মকাণ্ডে সমন্বয় ও কৌশলগত চিন্তাধারার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছে।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন দেশীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে যুক্ত।


