আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, তেহরানে চলমান বিক্ষোভ দমন ও সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে দেশটির ওপর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে কি না, তা মূল্যায়নের জন্য এই ব্রিফিং করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তার সামনে উপস্থাপিত বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত হামলার পরিকল্পনা। হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছে যে, দেশটির বিক্ষোভ দমনের জন্য ব্যবহার করা কঠোর শক্তি কঠোর প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে মুদ্রা সংকটের প্রতিবাদে। দ্রুত তা ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং অনেক ইরানি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে অন্তত কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার বলেছেন, বড় বিক্ষোভের মুখে সরকার ‘পিছু হটবে না’।
গত শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “যদি তারা আগের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে, আমরা জড়িত হব। আমরা এমনভাবে আঘাত করব যা তাদের সবচেয়ে বেশি ব্যথা দেবে। স্থলবাহিনী পাঠানোর কথা নয়, তবে খুব শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” একই দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে ইরানের বিক্ষোভ, সিরিয়ার পরিস্থিতি এবং গাজায় শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন। রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের জনগণের পাশে আছে’।
ট্রাম্পের প্রশাসনের পূর্ববর্তী পদক্ষেপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান, যেখানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার নির্দেশ দেন। এছাড়াও ২০২০ সালে ট্রাম্প ইরাকের বাগদাদে ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইরানের কুদস বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া এবং নাইজেরিয়াতেও বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের ফলে উল্টো প্রভাব দেখা দিতে পারে। ইরানি জনগণ সরকারের পক্ষে একত্রিত হতে পারে, বা পাল্টা হামলার সূত্রপাত হতে পারে, যা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মীদের ঝুঁকির মুখে ফেলবে। সম্ভাব্য হামলার আগে মার্কিন কমান্ডাররা আরও সময় চাইবেন—সামরিক অবস্থান সুসংহত করা এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য।
গত জুনে ট্রাম্পের নির্দেশে ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানে ছয়টি বি-২ বোমারু বিমান ইরানের ফোরদো পাহাড়ি স্থাপনায় ১২টি বাংকার-বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে নাতাঞ্জ ও ইস্পাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় ৩০টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপে ট্রাম্পের সামনে এমন বিকল্পও রয়েছে যা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সেই অংশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক বিকল্প গ্রহণে ট্রাম্পকে সতর্কভাবে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে—ইরানি সরকারের বিক্ষোভ দমন করলে শাস্তি প্রদান এবং একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ না হওয়া নিশ্চিত করা। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জটিল প্রভাব ফেলতে পারে।


