নির্বাচনকালীন সরকারি যোগাযোগে গণভোটের লোগো ব্যবহারের নির্দেশনা

নির্বাচনকালীন সরকারি যোগাযোগে গণভোটের লোগো ব্যবহারের নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একইসঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত সরকারি দপ্তরের সব ধরনের আনুষ্ঠানিক পত্র যোগাযোগে গণভোটের নির্ধারিত লোগো ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন স্থানে এ সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শনের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনামূলক চিঠি দেশের সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ কার্যক্রমে একক ও অভিন্ন বার্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রেরিত নির্দেশনার আলোকে গণভোটের জন্য নির্ধারিত লোগো সব ধরনের সরকারি পত্র যোগাযোগে ব্যবহার করতে হবে। নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, সরকারি দপ্তর থেকে প্রেরিত চিঠি, অফিস আদেশ, প্রজ্ঞাপন, বিজ্ঞপ্তি এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক যোগাযোগপত্রের উপরের ডান পাশে লোগোটি সংযুক্ত রাখতে হবে। নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

চিঠিতে আরও জানানো হয়, কেবল কাগজপত্রেই নয়, নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিজ নিজ আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সরকারি ভবন ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ব্যানার প্রদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এসব ব্যানারে গণভোটের লোগোসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এর আগে গত ৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারি পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বস্তরে নির্দেশনাটি পৌঁছে দিয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচন ও গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হওয়ায় এ সংক্রান্ত তথ্য প্রচার ও সরকারি যোগাযোগে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। নির্ধারিত লোগো ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে এবং একই সঙ্গে সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে বিষয়টির সংযোগ আরও স্পষ্ট হবে।

প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোর নিজস্ব পত্রাচার ব্যবস্থায় লোগো সংযোজনের পাশাপাশি ব্যানার প্রদর্শনের স্থান নির্বাচনেও নির্দেশনার আলোকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারি যোগাযোগে অভিন্ন প্রতীক ব্যবহারের উদ্যোগ প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও আইনানুগ প্রক্রিয়া বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন। নির্বাচন ও গণভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম যেন প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো জটিলতা বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচন পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ