প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শিবির সভাপতির অভিযোগ, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শিবির সভাপতির অভিযোগ, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা

রাজনীতি ডেস্ক

প্রশাসন একটি পক্ষের প্রতি ঝুঁকে পড়ে আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে যে ধরনের নিরপেক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা প্রশাসনের পালন করার কথা ছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া হাজী শরীয়তুল্লাহ একাডেমিতে ছাত্র শিবিরের সাথী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্টেকহোল্ডার দীর্ঘদিন ধরে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। তার মতে, ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত নজরদারি নিশ্চিত হলে অনিয়ম কমবে এবং ভোটারদের আস্থা বাড়বে। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত মাত্রায় দৃশ্যমান নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের প্রতি তাদের পক্ষ থেকে বারবার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনের একটি অংশ একদিকে ঝুঁকে পড়েছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ঝুঁকি তৈরি করছে। তার দাবি, প্রশাসনের এমন আচরণ নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশে সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের যে তৎপরতা থাকার কথা ছিল, সেখানে দুর্বলতা স্পষ্ট। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনার যথাযথ প্রতিকার বা কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নুরুল ইসলাম সাদ্দামের অভিযোগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতাও প্রয়োজনের তুলনায় দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসছে না। তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য শক্তিশালী আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে একটি চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কোথাও উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তার মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় অবস্থান ও কার্যকর সিদ্ধান্তের ঘাটতির কারণে ধীরে ধীরে অপকর্মের মাত্রা বাড়ছে।

শিবির সভাপতির বক্তব্যে আরও উঠে আসে প্রশাসনের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়টি। তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক কর্মকর্তা এখনো স্ব-পদে বহাল রয়েছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, রুট লেভেলে প্রশাসনের রদবদল না হওয়ায় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের কিছু ক্ষেত্রে সদিচ্ছা থাকলেও মাঠপর্যায়ের প্রশাসন সেই অনুযায়ী সাড়া দিচ্ছে না। ফলে যে ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে, তার দায় দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। নির্বাচনের সময় জনগণ যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ সময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম, জেলা সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজা এবং সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ