রুমিন ফারহানাকে ঘিরে মন্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যে সরাইল-আশুগঞ্জে নির্বাচনী উত্তাপ

রুমিন ফারহানাকে ঘিরে মন্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যে সরাইল-আশুগঞ্জে নির্বাচনী উত্তাপ

রাজনীতি ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। বিএনপি সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বক্তব্যে রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কৃত উল্লেখ করে বলেন, তিনি রাজনীতিতে ‘হেভিওয়েট’ নন এবং তার উপস্থিতিতে নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়বে না। তার এই মন্তব্যের পরদিন এলাকাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

জুনায়েদ আল হাবীবের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তিনি জানান, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় তার সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কেউ যুক্ত হবে না—এটি স্বাভাবিক। তবে তিনি তার বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক নথির উল্লেখ করেননি। তিনি আরও বলেন, সরাইল-আশুগঞ্জ এলাকাটি আলেম-ওলামা অধ্যুষিত এলাকা এবং এ কারণে তিনি এখানকার ভোটারদের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।

একই বক্তব্যে জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। তিনি দাবি করেন, তার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সময়কাল রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক জীবনের তুলনায় অনেক আগের। এই অভিজ্ঞতার ব্যবধান নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলেও তিনি মত দেন। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী প্রার্থীর ব্যক্তিগত মন্তব্য বা মূল্যায়ন নির্বাচনী ফল নির্ধারণে কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা রাখে না।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানা সরাইল-আশুগঞ্জ এলাকার রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাইরের এলাকার সংসদ সদস্যরা এসে এই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বক্তব্যে স্থানীয় স্বার্থ ও এলাকার প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়ও জোটের পক্ষ থেকে আনা একজন প্রার্থী সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীর সঙ্গে এলাকায় প্রচারে অংশ নিচ্ছেন—যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে বলেন, সরাইল-আশুগঞ্জের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত নিজেদের এলাকার সন্তানকেই নির্বাচিত করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তার এই মন্তব্য স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব ও ভোটারদের সিদ্ধান্তের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনে। তবে তিনি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের আহ্বান জানাননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। অতীতে এই আসনে বিভিন্ন দল ও জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় উন্নয়ন, শিল্পাঞ্চল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংক্রান্ত প্রকল্প, নদীভাঙন, কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামো উন্নয়ন এই আসনের প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে আলোচিত। সরাইল ও আশুগঞ্জ—উভয় উপজেলার ভোটাররা সাধারণত প্রার্থীর স্থানীয় সম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দলীয় অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে ভোট দিয়ে থাকেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারে ব্যক্তিগত আক্রমণ, উসকানিমূলক বক্তব্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। প্রার্থীদের বক্তব্য ও কর্মসূচি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হচ্ছে। কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রার্থীদের বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনী কৌশল ও ভোটারদের মনোভাব স্পষ্ট হয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ভোটারদের উপস্থিতি, প্রচারের কার্যকারিতা এবং স্থানীয় ইস্যুগুলোর প্রতি প্রার্থীদের অবস্থানের ওপর। সরাইল-আশুগঞ্জে আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনী প্রচার আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ