রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে তাদের আয়, সম্পদ, পেশাগত অবস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মামলার তথ্যের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া এসব হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যক্তিগত পটভূমিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়।
হলফনামা অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহর ঘোষিত আয়ের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক দলের বায়তুলমাল থেকে প্রাপ্ত ভাতাভিত্তিক। তিনি বছরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বায়তুলমাল থেকে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ১৮৬ টাকা ভাতা পান। এটি তার মোট ঘোষিত আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। এছাড়া কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
সম্পদের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. ইজ্জত উল্লাহর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ হাজার ২৩ টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণ, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার নামে ১ একর কৃষিজমি রয়েছে। বসতভিটা হিসেবে সাতক্ষীরা শহরে একটি একতলা পাকা বাড়ি রয়েছে, যার নির্মাণকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৪২ হাজার ১৫৮ টাকা। গ্রামে আরও একটি পাকা বসতবাড়ি রয়েছে, যার নির্মাণকালীন মূল্য ৫০ হাজার টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৮০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৪৬ হাজার ৬০০ টাকা বলে উল্লেখ রয়েছে।
আর্থিক খাতে তার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২২ টাকা। স্থায়ী আমানত রয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪০ টাকা এবং কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার ১৬ টাকা। সব মিলিয়ে তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ ২১ হাজার ১ টাকা। তার স্ত্রী মোছা. আয়েশা জামিলার নামে ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ১১৪ টাকার স্থায়ী আমানত এবং ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮০ টাকার কোম্পানি শেয়ার রয়েছে। বড় মেয়ে সুমাইয়া জিহানের নামে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫৭ টাকার সম্পদের তথ্যও হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতায় মো. ইজ্জত উল্লাহ এমএসসি পাস এবং পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য। তার বিরুদ্ধে মোট ৪১টি মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা এ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে সংখ্যাগতভাবে বেশি।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা-১ আসনে আর্থিক দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি সম্পদের মালিক হিসেবে বিএনপির প্রার্থী মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিবের তথ্য উঠে এসেছে। হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি, ব্যবসা ও অন্যান্য খাত থেকে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৩ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। তার স্ত্রী শাহানা পারভীন বকুলের কৃষি, আইন পেশা ও অন্যান্য খাত থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বিরুদ্ধে মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি খারিজ, ৫টি বিচারাধীন এবং ৪টি স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি এবং পেশা হিসেবে ঠিকাদারি ব্যবসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল করিম হলফনামায় জানিয়েছেন, তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে ১৫ হাজার টাকা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ফাজিল এবং পেশা হিসেবে চাকরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. ইয়ারুল ইসলাম তার হলফনামায় আইন পেশা থেকে বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলএম।
জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জিয়াউর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি। হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ১ লাখ টাকা এবং পৈত্রিক সূত্রে আয় ১ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর চাকরি থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার নিজের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ২ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে আরও ২ লাখ টাকা। এছাড়া নিজের ও স্ত্রীর নামে উপহার হিসেবে পাওয়া মোট ৪০ ভরি স্বর্ণের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া এসব হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থান, পেশাগত পটভূমি ও মামলার ইতিহাসে বৈচিত্র্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যা ভোটারদের জন্য প্রার্থীদের সম্পর্কে একটি তুলনামূলক ধারণা প্রদান করে।


