বিনোদন ডেস্ক
রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নয়দিনব্যাপী এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এবারের উৎসবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯১টি দেশের মোট ২৪৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
উৎসবের প্রদর্শনী কার্যক্রম শুধু রাজধানী ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। ঢাকার পাশাপাশি কক্সবাজারের লাবণী সৈকতেও নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন রাখা হয়েছে। ঢাকায় উৎসবের নির্ধারিত প্রদর্শনী স্থানগুলো হলো আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, থ্রিডি আর্ট গ্যালারি এবং ভিনটেজ কনভেনশন হল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সমান্তরাল প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শকদের জন্য চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য জালাল আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং এবং ক্রোয়েশিয়ার চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মারকোভিচ। উৎসবের সার্বিক কার্যক্রম ও লক্ষ্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা চলচ্চিত্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন, যা বৈশ্বিক সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। তিনি কক্সবাজারে উৎসবের কিছু আয়োজন অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং পরিবেশগত সচেতনতার বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিভাগীয় শহরগুলোতেও চলচ্চিত্র উৎসব সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা জানান।
চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং এবারের আয়োজনের একটি অংশকে চীনা চলচ্চিত্র সপ্তাহ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বিস্তৃত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে প্রদর্শিত হয় চীনা পরিচালক চেন শিয়াং নির্মিত চলচ্চিত্র ‘উ জিন ঝি লু’। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা তুলে ধরতে জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে চীনা চলচ্চিত্রভিত্তিক একটি বিশেষ প্রদর্শনী কর্নারের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতে একটি থিয়েটিক্যাল দলের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা দর্শকদের জন্য আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হিসেবে কাজ করে।
এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলো বিভিন্ন বিভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে। বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, বাংলাদেশ প্যানোরামা, রেট্রোস্পেকটিভ, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, সিনেমা অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, উইমেন ফিল্মমেকার, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্মস, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস এবং চিলড্রেন ফিল্ম সেশন। প্রতিটি বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক ও বিষয়ভিত্তিক চলচ্চিত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রবণতার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই উৎসবের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজ আন্তর্জাতিক পরিসরে উপস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং একই সঙ্গে বিশ্ব চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক ধারা সম্পর্কে দর্শক ও নির্মাতাদের ধারণা বিস্তৃত হয়। চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন সেশন ও মতবিনিময় আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
নয়দিনব্যাপী ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামবে আগামী ১৮ জানুয়ারি।


