আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালু করতে স্টারলিংক স্যাটেলাইট পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই বিষয়ে স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে ইরানে প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় দেশটির ভেতরে ও বাইরে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে রোববার (১১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “যদি সম্ভব হয়, আমরা ইন্টারনেট চালু করার চেষ্টা করব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের প্রযুক্তিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইলন মাস্ক অত্যন্ত দক্ষ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপশেষে মাস্ককে ফোন করবেন।
বিক্ষোভের পটভূমিতে জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরান সরকার অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই বিক্ষোভে প্রভাব বিস্তার ও উসকানি দিচ্ছে।
ইন্টারনেট বন্ধের ফলে দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট যোগাযোগের অপ্রাপ্যতা তথ্য প্রবাহ সীমিত করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কঠিন করে তুলেছে।
মার্কিন প্রশাসনের পরিকল্পিত প্রযুক্তিগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ইরানবাসী এবং দেশটির বাইরে অবস্থানরত নাগরিকরা যোগাযোগের একটি বিকল্প উপায় পেতে পারেন। তবে কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতা বিষয়টি কার্যকর করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইন্টারনেট পুনঃপ্রচেষ্টার মতো উদ্যোগ শুধুমাত্র নাগরিক যোগাযোগের সুবিধা বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। পাশাপাশি, ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান এই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানে তথ্য ও যোগাযোগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর নজর রাখছে। দেশটির নাগরিক সমাজও বিক্ষোভ এবং তথ্যপ্রবাহের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে।
মোটের ওপর, ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ এবং মার্কিন উদ্যোগের সম্ভাবনা দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং প্রযুক্তিগত সমাধানের সংমিশ্রণ হিসেবে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।


