এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি : রুমিন ফারহানা

এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি : রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক

বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, জনগণের সমর্থনই তাঁকে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং রাজপথে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছেন।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে নিজ বাসভবনের সামনে কেন্দ্রীয় নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, অতীত ভূমিকা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রতি সম্মান জানানো। তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট নেতা বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত হয়নি; বরং সাধারণ ছাত্র, শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের অংশগ্রহণেই তা সংগঠিত হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর বাবা ওই আন্দোলনের একজন অংশগ্রহণকারী ছিলেন এবং সেই ঐতিহ্য থেকেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।

সমাবেশে তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচিতে তিনি সরাসরি রাজপথে ছিলেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ৫ আগস্ট সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁকে রাস্তায় দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই সময় অনেক রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্যে সক্রিয় ছিলেন না। এ কারণে তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয়, বরং এলাকার সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান।

নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা ও নানা ধরনের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সহিংসতা বা ভয় দেখানোর রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না। একই সঙ্গে তিনি তাঁর নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, অতীতে শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামোর মুখোমুখি হয়েও তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার করেছে। সে কারণে ভোটের ফল প্রভাবিত করার সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন শাহবাজপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি শহিদুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবজাল হোসেন, সরাইল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. ওসমান, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পরও তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়ে প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ