কারফিউ জারি ও দমন-পীড়ণের অভিযোগে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

কারফিউ জারি ও দমন-পীড়ণের অভিযোগে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

আইন আদালত ডেস্ক

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় কারফিউ জারি করে দমন-পীড়ণ ও হত্যাকাণ্ডে উসকানির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হবে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ এই বিষয়ে আদেশের দিন নির্ধারণ করেছেন। ৬ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরীর মাধ্যমে সালমান ও আনিসুলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানিতে তিনি তাদের নির্দোষ দাবি করেন এবং চার্জ গঠন না করার জন্য বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেন। এছাড়া প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থাপিত ফোনালাপটি সালমান ও আনিসুলের নয় বলে ট্রাইব্যুনালে অস্বীকার করা হয়। বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষা করার আবেদনও করা হয়, যা ৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল নাকচ করে দেয়।

প্রসিকিউশন পাঁচটি অভিযোগ উপস্থাপন করেছে। অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও ষড়যন্ত্র চালানো। সালমান ও আনিসুলের নির্দেশে মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় বহু ছাত্র-জনতার প্রাণহানি ঘটে, তবে নির্যাতন বন্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সালমান ও আনিসুল সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ১৯ জুলাই ২০২৪ সালে তাদের ফোনালাপে কথোপকথনের একটি অংশে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে’ দিতে হবে। এই অডিও রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণগত অভিযোগ চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২২ ডিসেম্বর শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেন। ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেন এবং একই দিনে প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।

সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট গ্রেফতার হন এবং এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ