রাজনীতি ডেস্ক
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল যেখানে আলেম ও উলামাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত। বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করে না; মানুষের মন জয় করতে হলে ভালোবাসা ও সম্মানের মাধ্যমে এগোতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশের সময় সালথার বহু আলেম-ওলামা আহত হয়েছেন, কেউ কেউ নিহত হয়েছেন। এছাড়া অনেকের পা ভেঙে যায়, গুলিবিদ্ধ হন এবং অনেক আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, তার বাবা এমপি ও মন্ত্রী থাকাকালে এ এলাকার কোনো মানুষকে অবমূল্যায়ন করা হয়নি, কারও ওপর নির্যাতন চালানো হয়নি এবং কাউকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়নি। তিনি শহীদ জিয়া, তারেক রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সেবা করা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ জানুয়ারি নির্বাচনের পরেও তার জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক অম্লান থাকবে। শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে তাকে জনগণের কাছ থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হয়েছে, তবে আল্লাহর কৃপায় তিনি জনগণের সঙ্গে রয়েছেন।
সভায় তিনি রামকান্তপুর ইউনিয়নকে আন্তর্জাতিক মানের একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, সালথা উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বে। ২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সালথার মাঠে বিশাল জনসভায় এসে এটি উপজেলা ঘোষণা করেন। কেএম ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে তখন সালথা উপজেলা প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে এ উপজেলায় মানসম্মত কোনো হাসপাতাল নেই। অসুস্থ হলে মানুষকে ফরিদপুর বা ঢাকায় যেতে হয়। নির্বাচিত হলে এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে দরিদ্র মানুষ স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন।
আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার উন্নয়নের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার বাবা মাদ্রাসাগুলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতেন। তিনি মাদ্রাসা ও মসজিদ সংস্কার করে উন্নত মানে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ভোটের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ জানে কাকে ভোট দিলে উন্নয়ন সম্ভব হবে, কারা রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা নেবে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য মানুষের সেবা করা, ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।
সভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি সতর্কবার্তা দেন যে, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি বা দখলবাজিতে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানটি সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আযাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মনির মোল্যা, নগরকান্দা যুবদল নেতা তৈয়াবুর রহমান মাসুদ, বিএনপি নেতা হাসান মাতুব্বরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


