রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায়  মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায়  মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে) হেরে  মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু করছে। সোমবার স্থানীয় সময় বেলা ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) এ শুনানি শুরু হবে এবং আগামী তিন সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।

এই মামলা ২০১৭ সালের রাখাইন সংক্রান্ত ঘটনায় ভিত্তি করে দায়ের করা হয়েছে। ওই বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিছু পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বিস্ফোরণ ঘটায় আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। মিয়ানমারের সরকার এই হামলার দায় স্বীকার করে নয়, বরং আরসাকে দায়ী করে এবং এর জেরে রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করে। অভিযানের সময় বর্মী সেনারা বেসামরিক রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং এখনও এখানেই অবস্থান করছেন।

জাতিসংঘের ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ অনুসন্ধানী দলের প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২০১৭ সালের অভিযান চলাকালীন সময়ে জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দল পরিস্থিতি তদন্ত করে এবং প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে।

২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বৈশ্বিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা দায়ের করে। এই মামলার শুনানি এখন শুরু হচ্ছে। নিকোলাস কৌমজিয়ান জানিয়েছেন, মামলাটি গণহত্যার সংজ্ঞা, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ এবং এ ধরনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।

মিয়ানমারের অভিযান চলাকালীন সময়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গাম্বিয়ার মামলা দায়েরের সময়ও তিনি অভিযোগগুলোকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ২০২১ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পরে সুচি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বর্তমানে মিয়ানমারে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সেনাবাহিনীর আদালতে বিচার চলছে।

মামলার শুনানি চলাকালীন বৈশ্বিক আদালত বিষয়টির বিস্তারিত তদন্ত করবে এবং গণহত্যার অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখবে। এটি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট ও এর প্রেক্ষাপটের কারণে বাংলাদেশে মানবিক এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ এখনও বহাল আছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় ও জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা, তাদের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের প্রশ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্থায়ী দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ