রাজনীতি ডেস্ক
প্রধান উপদেষ্টা-এর বিশেষ সহকারী আলী রিয়াজ বলেছেন, আগামী গণভোট কেবল আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এই গণভোট ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
গত সোমবার রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রিয়াজ এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রম কতটা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেটের মাধ্যমে নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি এ সময় বলেন, “এই কারণেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে এবং নাগরিক হিসেবে সবার দায়িত্ব গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করা।” তিনি আরও জানান, জুলাই মাসে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, গণভোট আয়োজনের বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বিমত নেই। সব দলই গণভোটকে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সংবাদ বিশ্লেষকদের মতে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কাঠামোতে জনগণের সরাসরি ভূমিকা রাখার বিষয়টি এই গণভোটকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এছাড়া, এই ধরনের গণভোটে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও জনগণকে ভোট প্রদানে উদ্বুদ্ধ করার ভূমিকা পালন করছে।
গণভোটের মাধ্যমে নাগরিকরা শুধু নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবেন। এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজশাহী বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে আলী রিয়াজের বক্তব্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে ধর্মীয় নেতারা জনগণকে ভোটের গুরুত্ব বোঝাতে এবং গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখার বিষয়ে মনোযোগ দেন। সম্মেলনে উপস্থিতরা একমত হন যে, গণভোট দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংলাপ এবং এটি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মজবুত প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হবে।
এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যেহেতু গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একমত, তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। নাগরিকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এই প্রক্রিয়াকে আরো বৈধ ও শক্তিশালী করে তুলবে।
মোটকথা, এই গণভোট কেবল নির্বাচনের পরিধি বা সংক্ষিপ্ত মেয়াদের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনগত কাঠামোর উপর স্থায়ী প্রভাব ফেলার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


