ঢাকা নির্বাচনী আসন: রাজধানীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বের বিশ্লেষণ

ঢাকা নির্বাচনী আসন: রাজধানীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বের বিশ্লেষণ

রাজধানী ডেস্ক

ঢাকা জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক গুরুত্বের কারণে রাজধানীর প্রতিটি সংসদীয় আসন জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী ঢাকা জেলা ও ঢাকা মহানগর মিলিয়ে বর্তমানে ২০টি জাতীয় সংসদীয় আসন রয়েছে।

ঢাকার আসনগুলো ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলা নিয়ে গঠিত। নগর সম্প্রসারণ ও জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে একেকটি আসনের এলাকা একেকভাবে বিভক্ত। ঢাকা জেলার দুটি আসন পুরোপুরি নগর এলাকার বাইরে ও উপজেলা কেন্দ্রিক।

ঢাকা–১ আসনটি দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত, যা রাজধানীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। ঢাকা–২০ আসন ধামরাই উপজেলার গ্রামীণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে, যা ঢাকার পশ্চিম প্রান্তের বাইরে।

ঢাকা–২ আসন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত, বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরবর্তী। প্রশাসনিকভাবে এটি আলাদা উপজেলা হলেও রাজধানীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। ঢাকা–৩ আসনের আওতায় কেরানীগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়ন—আগানগর, কন্ডা, সুবদ্যা, তেঘরিয়া ও বিনজিরা—অন্তর্ভুক্ত। ঢাকা–৪ আসন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নয়টি ওয়ার্ড ও শ্যামপুর থানার এলাকা নিয়ে গঠিত। ঢাকা–৫ আসন ঢাকা দক্ষিণের ১২ ওয়ার্ড, বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকা, অন্তর্ভুক্ত।

পুরান ঢাকা ও দক্ষিণ ঢাকার আসনগুলো ঐতিহাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত। ঢাকা–৬ আসন পুরান ঢাকার অংশবিশেষ, যেখানে ঐতিহ্যবাহী আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা রয়েছে। ঢাকা–৭ আসন লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার বড় অংশকে আচ্ছাদিত করে। ঢাকা–৮ আসনের মধ্যে ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট ও আশপাশের আবাসিক-বাণিজ্যিক এলাকা অন্তর্ভুক্ত। ঢাকা–৯ আসন মতিঝিল ও পল্টন কেন্দ্রিক, যা দেশের প্রধান বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত।

মধ্য ঢাকার অন্যান্য আসন ঢাকা–১০ থেকে ঢাকা–১৩ পর্যন্ত বিস্তৃত। ঢাকা–১০ আসন ধানমন্ডি ও পার্শ্ববর্তী এলাকা অন্তর্ভুক্ত। ঢাকা–১১ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও সংলগ্ন আবাসিক এলাকা নিয়ে গঠিত। ঢাকা–১২ তেজগাঁও, শের-ই-বাংলা নগর ও কাওরান বাজার এলাকা নিয়ে গঠিত। ঢাকা–১৩ মোহাম্মদপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আসনগুলোর মধ্যে ঢাকা–১৪, ঢাকা–১৫ ও ঢাকা–১৬ মিরপুর ও আশপাশের আবাসিক এলাকা নিয়ে গঠিত। ঢাকা–১৭ আসন গুলশান, বনানী, বারিধারা, মহাখালী এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। ঢাকা–১৮ উত্তরা, বিমানবন্দর ও তুরাগসহ উত্তরের কিছু অঞ্চল আচ্ছাদিত। ঢাকা–১৯ সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চল নিয়ে গঠিত, যা দেশের অন্যতম বড় শিল্পাঞ্চল। এই আসনের আওতায় পোশাকশিল্প এবং শ্রমজীবী মানুষের বসবাস বেশি।

নির্বাচনী আসনের সীমানা অনুযায়ী ভোটার তালিকা, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিত্ব, উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনা নির্ধারিত হয়। রাজধানীতে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন সময়-সময়ে এসব আসনের সীমানা পুনর্গঠন করে। বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার আসনগুলোর সঠিক ভৌগোলিক ধারণা থাকলে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ