প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস উচ্চশিক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় তরুণদের গুরুত্বের ওপর জোর দেন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস উচ্চশিক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় তরুণদের গুরুত্বের ওপর জোর দেন

জাতীয় ডেস্ক

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুবসমাজের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সার্ক (দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সংস্থা) পুনরুজ্জীবিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলন (সার্চ-২০২৬)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের শিক্ষাবিদদের একত্র হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর আলোকে শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সম্মেলনটি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় আয়োজন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তরুণদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং মনন রয়েছে, যারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়ে প্রতিবাদ করেছে। তিনি বলেন, এই তরুণদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা বোঝার চেষ্টা না করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য হারানো হবে। শিক্ষার্থীদের প্রেরণার উদাহরণ হিসেবে শহীদ স্কুলছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের মায়ের কাছে লেখা চিঠির উল্লেখ করেন, যেখানে বন্ধুদের সঙ্গে রাজপথে নামাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনা হঠাৎ কোনো বিস্ফোরণ নয়। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে, তবে ঢাকায় তা ব্যাপকভাবে ঘটেছে। তিনি সম্মেলন আয়োজনের জন্য বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি সার্কের মূল দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি পুনরায় সার্ককে সক্রিয় করার আহ্বান জানান।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান দেশের পুরনো কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছে। তরুণরা নিজস্ব ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করেছে এবং তারা মনে করে দেশের সমস্যার মূল নিহিত রয়েছে সংবিধানে। সেই কারণে ভবিষ্যৎ সংবিধান নির্ধারণে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার প্রাসঙ্গিকতায় তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা মৌলিকভাবে চাকরিকেন্দ্রিক এবং এটি শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণে সীমাবদ্ধ। তিনি শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য নির্ধারণে তরুণদের উদ্যোক্তা ও পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তার মতে, সৃজনশীলতাই মানবসভ্যতার মূল শক্তি, এবং এটি উন্নয়ন ও পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে। ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ