জাতীয় ডেস্ক
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কোন দিক এগোবে। তিনি মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।
সন্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। ইউজিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ সম্মেলন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়ন।
ড. ইউনূস তার বক্তৃতায় বলেন, উচ্চশিক্ষা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
ইউজিসি জানিয়েছে, সম্মেলনের প্রথম দিনে শিক্ষার নীতি, গবেষণা ও শিক্ষার্থীর সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিরা উপস্থাপনা দেন। এছাড়া, উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গবেষণা-উন্নয়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বৃদ্ধির বিষয়েও বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের আঞ্চলিক সম্মেলন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হিট প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত তথ্য ও সুপারিশ ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে উচ্চশিক্ষায় সমন্বয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থী মনোভাব উন্নয়নের ওপর কর্মশালা ও সেশন পরিচালনা করা হবে। ইউজিসি আশা করছে, সম্মেলনের ফলাফল শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এবং বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে স্থায়ী পরিবর্তন আনবে।


