অনলাইন ডেস্ক
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপথে সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকর ভূমিকা রাখছে, যার মধ্যে মিশরের তাহরির স্কয়ারে আরব বসন্ত এবং শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের গণঅভ্যুত্থান উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই প্রাক্কালে রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতাকর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কেউ সরাসরি প্রচারণা চালাতে পারবে না। এ কারণে দলগুলো সামাজিক মাধ্যমকে তাদের বার্তা পৌঁছানোর প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে তারা প্রথাগত প্রচারণার বাইরে গিয়ে ভিডিও, সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত। দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে রয়েছে ৪ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ফলোয়ার। ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে ৯১ হাজার ৫০০, ইনস্টাগ্রামে ১ লাখ ২৩ হাজার এবং টিকটকে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ফলোয়ার। এছাড়া ইউটিউব চ্যানেলে রয়েছে ২ দশমিক ৮২ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার। সম্প্রতি ফেসবুকে দলটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাওয়ার ভিডিও বুস্ট করার মাধ্যমে ফলোয়ার বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের বৃহত্তম ইসলামী রাজনৈতিক দল। অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে রয়েছে ৩ মিলিয়ন ফলোয়ার। ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭০০, ইনস্টাগ্রামে ৪৪ হাজার ৬০০ এবং টিকটকে ৩ হাজার ২৯৯ ফলোয়ার। ইউটিউব চ্যানেলে রয়েছে ৬ লাখ ৬৭ হাজার সাবস্ক্রাইবার।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ২০২৪ সালের গণঅভ্যূত্থানের পর ছাত্র নেতাদের উদ্যোগে গঠিত নতুন দল। অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে ১১ হাজার ৬০০, ইনস্টাগ্রামে ২ হাজার ৯৪১ ফলোয়ার। ইউটিউবে রয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ সাবস্ক্রাইবার।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাম্প্রতিক নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সমর্থন লাভ করেছে। তাদের ফেসবুক পেজে ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে ৫৮৬, ইনস্টাগ্রামে ৩ হাজার ১৭৪ ফলোয়ার। টিকটকে ২০ হাজার ৩০০ ফলোয়ার এবং ইউটিউব চ্যানেলে ৯৯ হাজার ৬০০ সাবস্ক্রাইবার রয়েছে।
গণ অধিকার পরিষদ সামাজিক আন্দোলন ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। দলটির ফেসবুক পেজে ৯৯ হাজার ৮০০ ফলোয়ার। ইউটিউব চ্যানেলের লিংক পেজে থাকা সত্ত্বেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এক্স অ্যাকাউন্ট নেই, টিকটকে ১ হাজার ৩০৪ ফলোয়ার আছে।
দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটিরও বেশি, যা মোট জনসংখ্যার ৩৪.৩ শতাংশ। এর মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারী ৬ কোটি, টিকটক ৪ কোটি ৬০ লাখ, লিংকডইন ৯৯ লাখ এবং ইনস্টাগ্রাম ৭৫ লাখ। ব্যবহারকারীর বড় অংশ তরুণ, যারা রাজনৈতিক দলের লক্ষ্যশ্রেণী হিসেবে বিবেচিত। দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের কৌশল সাজাচ্ছেন এই জনগোষ্ঠীর উপর ভিত্তি করে।
তবে সামাজিক মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। এতে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর খবর, গুজব ও ডেসইনফরমেশন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


