রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত ১১টি রাজনৈতিক দল আজ বুধবার রাজধানীতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে। ১৪ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে (দ্বিতীয় তলা) এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে জোটভুক্ত ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এ তথ্য জানিয়ে বুধবার আন্দোলনরত ১১ দলের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আসন সমঝোতা আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই আলোচনার ফলাফল ও পরবর্তী করণীয় জনগণ ও সংবাদমাধ্যমের সামনে আনতেই এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী বাস্তবতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার কাঠামো, কোন কোন আসনে কোন দল প্রার্থী দেবে—সে বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পৃথক বৈঠকে বসে। এসব বৈঠকে নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি, সম্ভাব্য জোটগত কৌশল এবং আসন সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য শরিক দলের সঙ্গেও ধারাবাহিক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি যৌথ অবস্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক দল নিয়ে গঠিত জোটগুলোর ক্ষেত্রে আসন সমঝোতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয়। এতে ভোট বিভাজন কমানো, সংগঠিত প্রচারণা পরিচালনা এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় কার্যকর অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হয়। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের এই উদ্যোগও সেই প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতার শর্ত, পরিসর এবং বাস্তবায়ন কৌশল সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট নয়।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দল ও জোট নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে তৎপর রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই, নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির পাশাপাশি জোটগত সমন্বয়কে অনেক দল গুরুত্ব দিচ্ছে। ১১ দলের এই যৌথ উদ্যোগ তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনী অংশগ্রহণের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী নেতারা সমঝোতার পটভূমি, আলোচনার প্রক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন বা প্রচারণা নিয়ে কোনো বার্তা দেওয়া হবে কি না, সেটিও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
সব মিলিয়ে আজকের যৌথ সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঘোষিত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং নির্বাচনী কৌশলের দিকটি আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


