ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়ার হুঁশিয়ারি গুতেরেসের

ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়ার হুঁশিয়ারি গুতেরেসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র বিরুদ্ধে ইসরাইলের পদক্ষেপ বাতিল না করলে দেশটিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ৮ জানুয়ারি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাঠানো চিঠিতে তিনি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

চিঠিতে গুতেরেস উল্লেখ করেন, ইসরাইলের নেওয়া পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং জাতিসংঘ এসব বিষয়ে উদাসীন থাকতে পারবে না। তিনি দেশটিকে অবিলম্বে আইন বাতিল করতে এবং জব্দ করা সম্পদ ও সম্পত্তি ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি এসব না করা হয়, তবে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নেওয়া হতে পারে।

গত বছরের অক্টোবরে ইসরাইলের পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে সংস্থাটিকে দেশটিতে কাজ করা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। ওই আইনের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পর গত মাসে ইসরাইল এই আইন সংশোধন করে ইউএনআরডব্লিউএ’র কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও পূর্ব জেরুজালেমে সংস্থাটির অফিসও জব্দ করা হয়েছে। জাতিসংঘ পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরাইলের দখলকৃত এলাকা হিসেবে দেখলেও, ইসরাইল পুরো জেরুজালেমকে নিজের অংশ দাবি করে।

ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘে মহাসচিবের চিঠি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, মহাসচিবের হুমকি ইসরাইলকে বিচলিত করতে পারবে না এবং তিনি মনে করেন, সংস্থার কর্মীদের সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি মোকাবিলা করার পরিবর্তে মহাসচিব ইসরাইলকে হুমকি দিয়েছেন।

জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং নিরাপত্তা পরিষদ ইউএনআরডব্লিউএকে গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) সম্প্রতি গাজার বেসামরিক জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে ইসরাইলের বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করেছে। যদিও আইসিজের মতামত আইনি ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে, তা বাধ্যতামূলক নয় এবং আদালতের সরাসরি প্রয়োগ ক্ষমতা নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের পদক্ষেপ এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যেই উত্তেজনা বাড়ানো পরিস্থিতিতে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে। ইউএনআরডব্লিউএ গাজার বেসামরিকদের জন্য খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা সহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতা, জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের জটিলতা পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউএনআরডব্লিউএ’র কার্যক্রমে বাধা ও সম্পদ জব্দের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শরণার্থী সুরক্ষা নীতির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

যদিও আইসিজের সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক নয়, এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরাইলের নীতির বৈধতা ও মানবিক দায়বদ্ধতা নিয়ে তর্ক উস্কে দিতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে জাতিসংঘ ও ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মানবিক সাহায্য কার্যক্রমের অবস্থা নতুনভাবে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংক্ষেপে, মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা এবং ইসরাইলের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ