সারাদেশ ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে নারী ও শিশুসহ ১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন করেছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার ভেতরে শিবনগর বাজার এলাকায় বিজিবির টহল দল তাদের আটক করে। বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সীমান্ত পিলার ২১৯/২৯-আর সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই ১৭ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। আটককৃতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ৫ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, তারা সবাই খুলনা ও যশোর জেলার বাসিন্দা।
বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, আটক ব্যক্তিরা আগে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। সেখানে দেশটির পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং আগ্রা কারাগারে প্রায় তিন বছর সাজা ভোগ করতে হয়। সম্প্রতি সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা ভারতের বিএসএফের কাছে হস্তান্তরিত হন। এরপর বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের টিলাশন ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরিয়ে পাঠায়।
এ ঘটনায় বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বিজিবি সীমান্ত নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে এবং পুশইনকৃত ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় পুশইন বা অনুপ্রবেশের ঘটনা পূর্বেও ঘটেছে। সাধারণত এসব পরিস্থিতিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বিজিবি বলেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্ত এলাকায় তদারকি আরও জোরদার করা হবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী স্থানীয় জনগণকে সীমান্ত এলাকা অতিক্রমের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা নিশ্চিত করেছে, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীমান্ত এলাকা থেকে এ ধরনের পুশইন ও আটক ঘটনাগুলি সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সীমান্ত আইন মেনে চলার বিষয়টি বিজিবি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
মূলত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পুশইনকৃত এই ১৭ জনের ঘটনা পুনরায় দেশের অভ্যন্তরে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ উভয়ের দিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ।


