জামায়াতের ‘দারিদ্র্য পুঁজি করে’ ভোটপ্রচারণা অভিযোগে ছাত্রদলের নেতা

জামায়াতের ‘দারিদ্র্য পুঁজি করে’ ভোটপ্রচারণা অভিযোগে ছাত্রদলের নেতা

রাজনীতি ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা নিম্নআয়ের মানুষদের দারিদ্র্যকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণামূলক জনসংযোগ (পিআর) কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তিনি জানান, খুলনা-৪ আসনসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন কৌশল লক্ষ্য করা গেছে।

হামিম জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রথম নজরে আসে তার এলাকা খুলনায়। খুলনা-৪ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এই এলাকায় জনপ্রিয় হলেও, স্থানীয় কিছু মানুষ জামায়াতের প্রতি ভোট দেওয়ার কথা বলছেন। তিনি বলেন, “এক ভ্যানচালক আমাকে বলেছিল, ‘সবাইকে তো দেখলাম, এবার একটু জামায়াতকে দেখব’। আমি বিস্মিত হয়েছিলাম, কারণ ভ্যানচালক প্রার্থীর নামও জানে না।” হামিমের দাবি, গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন চায়ের আড্ডায় এই ধরনের বক্তব্য শোনা গেছে।

ঢাকায় আসার পর হামিম আরও একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, খুলনার কয়রার একজন রিকশাওয়ালা, যিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকায় কাজ করেন, তাকে ফোন করে জানায় যে সম্প্রতি একজন যাত্রী তাকে টাকা দিয়ে বলেছেন, রিকশায় ওঠা যাত্রীদের বলতে, “সবাইকে তো দেখলাম, এবার একটু জামায়াতকে দেখব।” হামিম বলেন, “এটি একটি সংঘবদ্ধ এবং পরিকল্পিত প্রচারণা, যা আগে বুঝতে পারিনি।”

হামিম আরও জানান, ছদ্মবেশে এই প্রচারণার সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। রিকশাওয়ালাকে বলা হয়েছিল, অনেকে যাত্রী হিসেবে উঠবেন এবং তিনি সত্যিই তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে, প্রচারণাটি বাস্তবে কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি এই প্রচারণাকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, “নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষদের দারিদ্র্যের অংশকে পুঁজি করে জামায়াত এই সংঘবদ্ধ প্রচারণা চালাচ্ছে।” হামিমের দাবি, এই ধরনের কার্যক্রম নির্বাচনী মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিম্নআয়ের মানুষের দারিদ্র্যকে কাজে লাগিয়ে ভোট প্রভাবিত করা একটি নৈতিক ও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এমন কৌশল নির্বাচনের সামগ্রিক স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রচারণাটি শুধুমাত্র ভোটারকে প্রার্থী নির্বাচনে প্রভাবিত করার জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিকভাবে অসহায় মানুষের অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি নির্বাচনী আচরণ বিধি এবং জনসংযোগ নীতির সীমা অতিক্রম করতে পারে।

উল্লেখযোগ্য যে, জামায়াতের পক্ষ থেকে এই অভিযোগে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আগের নির্বাচনী পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে নির্বাচনী আচরণ ও ভোট প্রভাবিত করার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ তানভীর বারী হামিমের অভিযোগ অনুসারে, নির্বাচনের মাত্র এক মাস বাকি সময়ের মধ্যে এই ধরনের প্রচারণা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ভোটার সচেতনতা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। হামিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ