জেলা প্রতিনিধি
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফার হাট এলাকায় সংঘর্ষের সময় বিএনপির দুই নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, খলিফার হাট এলাকার বাজারে একটি দোকানে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বসে চা খাচ্ছিলেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এই সময় উপস্থিত জামায়াতের কিছু কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বাক্যালাপ চলাকালীন হঠাৎ হামলা চালানো হয়। হামলায় দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা এবং ছুরি ব্যবহৃত হয়। এতে সরোয়ার হোসেন ফারুক, যিনি চরদুয়ানী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য, এবং সেলিম বেপারি, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গুরুতর আহত হন।
আহত নেতাদের দ্রুত পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন জানান, হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। তিনি বলেন, “জামায়াত শিবিরের অতর্কিত হামলায় আমাদের দুই নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আমাদের নেতাকর্মীদের শান্ত রাখা হয়েছে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়।”
পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাসুদুল আলম বলেন, চরদোয়ানী এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় তার পক্ষ এখনও বিস্তারিত তথ্য জানে না।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, “চরদোয়ানী এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে দুই নেতা গুরুতর আহত। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।”
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নজরদারি করছে এবং অতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষে স্থানীয় প্রশাসনের সতর্ক পদক্ষেপ এবং দ্রুত আইন প্রয়োগ অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফার হাট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পূর্বে এ অঞ্চলে রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিরোধের ঘটনায় ছোটোখাটো সংঘর্ষ হলেও মঙ্গলবারের ঘটনা দুই দলের মধ্যে প্রতিপক্ষের প্রতি উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। এতে করে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং জনগণের মধ্যে সমন্বয় ও শান্তি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা আবারও浮োধ হয়েছে।
আহত নেতাদের উন্নত চিকিৎসা এবং সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। পরিস্থিতি মনিটরিং এবং সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি রোধের লক্ষ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


