অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
ইরানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সোমবার থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম উভয় ক্ষেত্রেই ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১ দশমিক ০৬ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়ায়, যা ২০২৫ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১ দশমিক ০২ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৬০ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দাম বৃদ্ধিতে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক জন ইভানস উল্লেখ করেছেন, ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলার অনিশ্চয়তা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাজারে উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে। এসব কারণে তেলের দামে ‘সুরক্ষামূলক প্রিমিয়াম’ যুক্ত হচ্ছে।
ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিসরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বিক্ষোভ দমন-পীড়নে শতাধিক মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এছাড়া, ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইরান রপ্তানি করা তেলের একটি বড় অংশ চীনে সরবরাহ করে, তাই এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
আইএনজি ব্যাংকের কৌশলবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সমঝোতা থাকায় চীনের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। এই অনিশ্চয়তার কারণে তেলের বাজারে দাম বৃদ্ধির চাপ বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং ভেনেজুয়েলার সরবরাহে কোনো বড় ব্যাঘাত ঘটলে এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে, আন্তর্জাতিক তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে তেল আমদানি নির্ভরশীল দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতি-প্রভাবের কারণে তা দাম বৃদ্ধির চাপকে সামাল দিতে পারছে না। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এই অবস্থা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ তেলের দাম সরাসরি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ এবং বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে।
বিশ্ববাজারের তেল মূল্য ওঠানামা ও ভূরাজনৈতিক সংকট সমন্বিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী কিছু মাসে সরবরাহ, নীতি পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতি বা উত্তেজনা তেলের দাম নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।


