ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন নিরাপত্তা উদ্বেগ ও কৌশলগত প্রেক্ষাপটের কারণে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিত্যক্ত পাঁচটি বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ি ‘চিকেন নেক’ করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য বলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।

ভারতীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এমন সময়ে যখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ টানাপোড়েনে রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তকারী সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রংপুর অঞ্চলের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির পুনর্নির্মাণ উদ্যোগ ভারতের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শিলিগুড়ি করিডোরের নিকটবর্তী এই বিমানঘাঁটির কারণে করিডোর বিচ্ছিন্ন করার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। গত এক বছরে এই ধরনের সম্ভাবনা একাধিকবার স্থানীয় নিরাপত্তা মহলে আলোচিত হয়েছে।

উক্ত প্রেক্ষাপটে ভারত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিশানগঞ্জ ও আসামের ধুবরি জেলায় নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে যে এয়ারস্ট্রিপ বা বিমানঘাঁটি সংস্কারের জন্য চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবরি। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও আসামের কোকরাঝাড় জেলার রূপসি বিমানঘাঁটি ইতিমধ্যেই পুনঃসক্রিয় রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই উদ্যোগ কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, বরং কৌশলগত গভীরতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একসময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলের ভূমিকা কৌশলগত ও সামরিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল, এবং বর্তমানে ভারতীয় নিরাপত্তা নীতি অনুযায়ী সেই অঞ্চল পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

পরিবর্তিত কৌশলগত বাস্তবতা ও সীমান্ত সংলগ্ন ঝুঁকির প্রেক্ষিতে ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক সমতা, আঞ্চলিক নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

ভারতের প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা নীতিতে সাম্প্রতিক এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোরের গুরুত্বকে কেন্দ্র করে সামরিক ও অবকাঠামোগত পুনর্গঠন ভারতের ভূ-রাজনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা কৌশলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ