রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ব্যালট পেপারের অসংগতি ও নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমালোচনার জবাবে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে হুঁশিয়ারি দেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, “মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না। আমি ঢাকায় ভেসে আসিনি এবং নির্বাচনে দাঁড়িয়ে কোনো অপরাধ করি নাই।” তিনি বলেন, দুর্বল প্রার্থীরা সবল প্রার্থীর বিরুদ্ধে মন্তব্য করবে, তবে তা তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি ঢাকা-৮ আসনে উচ্ছৃঙ্খল জনতা বা ‘মব’ তৈরি করার চেষ্টা করে, তার দায়িত্ব নিজেই নিতে হবে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে তিনি ব্যালট পেপারের উদ্দেশ্যমূলক অসংগতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “ব্যালট পেপারে যা দেখছি, সেটা উদ্দেশ্যমূলক। নির্বাচন কমিশনের উচিত এটি দ্রুত ঠিক করা।” নির্বাচনের প্রচারণার ক্ষেত্রে তিনি জানান, তারা আনুষ্ঠানিক কোনো প্রচারণা চালাচ্ছেন না, তবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
এছাড়া, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “পরিস্থিতি যেন আরও খারাপ হয়, সে জন্য কিছু প্রার্থী উসকানিমূলক কথা বলছেন। তারা চাইছেন কোনো ঘটনা ঘটুক এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে।” তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো ধরনের উসকানিতে কান না দিয়ে শান্তি বজায় রাখুন। তিনি বলেন, “আমার এলাকার ভোটারদের প্রতি আহ্বান, নিজেদেরকে যে কোনো উসকানিমূলক বার্তা থেকে দূরে রাখুন। আমাদের নেতাকর্মীরা সতর্ক আছে, তারা কোনো প্ররোচনায় পা দেবে না।”
নয়াপল্টন এলাকায় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। তার এই মন্তব্য স্থানীয় নির্বাচনী পরিস্থিতি ও ভোটারদের সচেতন থাকার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের সতর্ক বার্তা স্থানীয় শান্তি ও ভোটারদের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যালট পেপারের অসংগতি ও নির্বাচনী আচরণবিধি মানা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মির্জা আব্বাসের এ আহ্বান নির্বাচনী এলাকায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা প্ররোচনার বাইরে থেকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন।


