অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (১২ জানুয়ারি) দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রূপার নতুন দাম ঘোষণা করেছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে এবং বুধবার (১৪ জানুয়ারি) থেকে বিক্রয় শুরু হবে।
নতুন নির্ধারিত মূল্যের ভিত্তিতে, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই দাম নির্ধারণের সময় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রূপার বাজারেও মূল্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ৪০৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের রূপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে এই সমন্বয় কার্যকর করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর ওঠানামা করলে তা সরাসরি দেশের ক্রেতাদের ওপর প্রভাব ফেলে। দেশীয় বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগ ও গহনা ক্রয়ে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশে স্বর্ণ ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খাত হিসেবে বিবেচিত। দেশে গহনা শিল্প এবং বিনিয়োগমূলক স্বর্ণ ক্রয়–বিক্রয় কার্যক্রমে বাজুসের দাম নির্ধারণ একটি মূল সূচক হিসেবে কাজ করে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক স্বর্ণ বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে নিয়মিত মূল্য সমন্বয় রাখা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।
এদিকে, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই নতুন দাম অনুযায়ী ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্বর্ণ ও রূপা কেনার ক্ষেত্রে বাজার পর্যবেক্ষণ এবং সঠিক সময় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গহনা প্রস্তুতকারক এবং বিক্রেতাদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ও ভ্যাটের হার বুঝে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
বাজুসের এই নতুন ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, স্থানীয় চাহিদা এবং ক্রয়ক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে স্বর্ণ ও রূপার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


