গরু ব্যবসায়ী অপহরণ মামলায় ১৬ জনের নামে মামলা, বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে হয়রানিমুক্ত তদন্তের দাবি

গরু ব্যবসায়ী অপহরণ মামলায় ১৬ জনের নামে মামলা, বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে হয়রানিমুক্ত তদন্তের দাবি

রাজনীতি ডেস্ক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিএনপির চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশিদ গরু ব্যবসায়ী অপহরণের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের হয়রানি রোধ এবং মিথ্যা মামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন মামলার আসামি ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

গত মঙ্গলবার রাতে চরবাগডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই সভায় হারুনুর রশিদ বলেন, “নিরপরাধ ব্যক্তিদের কোনোভাবেই হয়রানি করা যাবে না। এই মামলায় প্রতিহিংসার কারণে নিরপরাধ আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের আসামি করা হয়েছে।” তিনি স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করেন, নির্বাচনের পর প্রশাসনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের অবৈধ চাপ বা হয়রানি থাকলে তার দায়প্রাপ্তদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

সভায় চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন সদস্য নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি গরু ব্যবসায়ী গোলাকাজুল ওরফে কাজল (৩৫) অপহরণের অভিযোগে দায়ী ৫ নম্বর আসামি। এ ছাড়া ৮ নম্বর আসামি আতাবুর রহমান ওরফে সেন্টু এবং অন্যান্য আসামিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। মামলায় তাঁতী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম ছাড়াও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ওমর আলীসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশিদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আওয়ামী লীগ ও তাঁতী লীগ নেতাকর্মীরা নির্ভয়ে থাকতে পারেন। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের হয়রানি করা যাবে না। কারও নির্দেশে কোনো ধরনের হয়রানি বা মিথ্যা মামলা হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনের পর প্রশ্ন করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “টাকার বিনিময়ে মামলা নেওয়া কোনো কর্মকর্তার চাকরি দীর্ঘমেয়াদী হবে না।”

সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক নেতা শাহনেওয়াজ খান সিনা, চরবাগডাঙ্গার সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, টুটুল ইসলাম ও এনামুল হক, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল রেজা, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মেজর ডালিম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেলসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মামলার সূত্র অনুযায়ী, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন ওরফে ফিরোজ মেম্বারের ছেলে গোলাকাজুল ওরফে কাজল গত ২ জানুয়ারি রাতে নিখোঁজ হন। তাঁর স্ত্রী লিমা বেগম ৮ জানুয়ারি সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওমর আলী, নুরুল ইসলামসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আটজনসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছে মো. আলম, হাসেম আলী, জোহাক আলী, নাজমুল গুধা, নেজাম উদ্দিন এবং আতাবুর রহমান সেন্টু।

হারুনুর রশিদ বলেন, “যারা তদন্তে দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিলে তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না।” সদর মডেল থানার ওসি নুরে আলম এই ঘটনায় বলেন, “বাদী যে কাউকে আসামি করতে পারেন। তদন্ত ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়। বিএনপি প্রার্থীর রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়াটা তার সাংবিধানিক অধিকার।”

মামলার প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য অনুসারে, এই বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে মনোযোগের দাবি রাখছে। স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ