জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ভাঁজের মধ্যে পড়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যালট পেপার মুদ্রণের ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত প্রতীকগুলোর নির্ধারিত ক্রম ও ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট মুদ্রণের সময় আইন ও বিধিমালার আলোকে সরকারিভাবে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী প্রতীকগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যালট পেপারে প্রতীক বসানোর ক্ষেত্রে কমিশনের নির্ধারিত কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
ধানের শীষ প্রতীক ব্যালটের ভাঁজে পড়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ব্যালট মুদ্রণের কারিগরি প্রক্রিয়া এবং ভাঁজের বিষয়টি একটি অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, ব্যালট ছাপানোর দায়িত্বে যেসব সংস্থা ও সংশ্লিষ্টরা যুক্ত ছিলেন, তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাবে না। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
ইসি সচিব আরও বলেন, এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য কমিশনের হাতে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে সরকারিভাবে প্রকাশিত গেজেটের ক্রম ও ধারাবাহিকতা অনুযায়ীই পোস্টাল ব্যালট প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতীকগুলোর অবস্থান নির্ধারণে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পক্ষকে সুবিধা বা অসুবিধায় ফেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধানের শীষ প্রতীকটি ব্যালট পেপারের মাঝামাঝি অংশে এমনভাবে রাখা হয়েছে, যাতে ব্যালট ভাঁজ করলে প্রতীকটি সহজে চোখে পড়ে না। তাঁর দাবি, এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে এখনো যেসব পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়নি, সেগুলো সংশোধন করার দাবি জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ বা সংশোধনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা যাচ্ছে না। কমিশনের নিয়মিত সভায় বিষয়টি আলোচনার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, কমিশন সব রাজনৈতিক দলের অভিযোগ ও মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, পোস্টাল ব্যালট সাধারণত প্রবাসী ভোটার, সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ধরনের ব্যালটে প্রতীক ও প্রার্থীর তথ্য স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকা নির্বাচন বিধিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কোনো প্রতীক ভাঁজের মধ্যে পড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলে তা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক সংক্রান্ত যেকোনো বিতর্ক দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করা নির্বাচন কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ অবস্থায় কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের দিকে রাজনৈতিক দলগুলো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।


