খেলাধূলাধ ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটপাড়া অস্থির পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। ক্রিকেটারদের সংস্থা কোয়াব (ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন) স্পষ্ট জানিয়েছে, নাজমুল পদত্যাগ না করলে তারা সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াবেন। এ নিয়ে অবশেষে বিসিবি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন নাজমুল ইসলামকে বিশ্বকাপে খেলতে না পারা ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের পেছনে যে ব্যয় করা হয়েছে, তার কোনও প্রতিদান তারা দিতে পারছেন কি না। নাজমুল বলেন, ‘ওরা যদি কিছুই না করতে পারে, আমাদের কোটি কোটি টাকা খরচের প্রতিদান কি আমরা ফেরত চাইব না? তাহলে বিশ্বকাপে না খেললে ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন তুলতে পারবে না। আমরা যে প্লেয়ারদের পেছনে ব্যয় করেছি, তারা কিছুই করতে পারছে না। বিশ্বকাপ আনা হয়েছে কি না সেটিও এক বিবেচ্য বিষয়।’
এছাড়া, নাজমুল আগে তামিম ইকবালকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। তিনি তামিমকে ভারতীয় দালাল হিসেবে উল্লেখ করলে কোয়াব কড়া সমালোচনা করেছিল। সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর, কোয়াব সরাসরি সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। কোয়াব সভাপতি মিঠুন বলেন, ‘দায়িত্বশীল একজন বোর্ড পরিচালক কখনোই খেলোয়াড়দের নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন না। তিনি যদি পদত্যাগ না করেন, আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ করব।’
বিসিবি এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, নাজমুল ইসলামের মন্তব্যে সৃষ্ট উদ্বেগ বোঝা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বোর্ড জানায়, তারা পেশাদারিত্ব, ক্রিকেটারদের প্রতি সম্মান এবং ক্রিকেটের মূল্যবোধ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, নাজমুলের কাছে ইতোমধ্যে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিসিবি জানায়, ‘সংস্থা হিসেবে আমাদের নিজস্ব নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি দেখছি। শোকজ নোটিশের প্রক্রিয়া অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, আজ থেকে বিপিএলের ঢাকা পর্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নাজমুলের মন্তব্য ও কোয়াবের হুঁশিয়ারি দুইটি ম্যাচের নিয়েও শঙ্কা তৈরি করেছে। বিসিবি পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা পেশাদার মনোভাব বজায় রেখে টুর্নামেন্টের কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করতে সহযোগিতা করবেন। বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ক্রিকেটাররাই বিপিএল এবং বোর্ড কার্যক্রমের প্রধান অংশীদার। তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করলে বিপিএল ২০২৬ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।’
এই ঘটনায় ক্রিকেট প্রশাসন ও খেলোয়াড়দের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সমাধানের জন্য বিসিবি শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করায় বোর্ডের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ক ও টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।


