ভোটকালীন অনিয়মে অভিযোগ: ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যালট পূরণের প্রক্রিয়ায় বিতর্ক

ভোটকালীন অনিয়মে অভিযোগ: ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যালট পূরণের প্রক্রিয়ায় বিতর্ক

আইন আদালত ডেস্ক

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটের স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়াগত অখণ্ডতা লঙ্ঘনের গুরুতর ঘটনা ঘটেছে বলে জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নির্বাচনের প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট বাক্সে রাখা হয়েছিল। রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত এই সিলিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও পুলিশ নির্বাচনের প্রতীক নৌকায় ব্যালট বাক্সে ভোট স্থাপন ও সিলমোড়ের কাজ সম্পন্ন করে। তৎকালীন পুলিশের আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী শেখ হাসিনাকে রাতের বেলা ব্যালট বাক্স ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরামর্শ গ্রহণের পর মাঠ পর্যায়ে পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীরা এই প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই নির্বাচনে ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ে। এর মধ্যে ১২২টি কেন্দ্রে ৯৯ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পড়েছে। এছাড়া, ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ৭ হাজার ৬৮৯টি কেন্দ্রে। এই তথ্যগুলো ভোটের অস্বাভাবিক ঘনত্ব ও প্রক্রিয়াগত লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কমিশনটি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারক বিচারপতি শামীম হাসনাইনকে কমিশন প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের। তারা সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেশ করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটের দিন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে ব্যাপকভাবে বাধা প্রদান করা হয়। এর ফলে ভোটাধিকার ব্যবহারে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত হয় এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জনগণের বিশ্বাসহীনতার বিষয়টি সামনে আসে।

তদন্ত কমিশনের এই তথ্য প্রকাশ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, সরকারি দলের ভূমিকা, পুলিশ প্রশাসনের সম্পৃক্ততা এবং ভোটের যথাযথতা নিয়ে বিতর্ককে নতুন মাত্রা প্রদান করেছে। এর প্রেক্ষিতে আগামী নির্বাচনে ভোটের নিরাপত্তা, প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও সংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠতে পারে।

প্রতিবেদনটি মূলত বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রক্রিয়াগত দুর্নীতি, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং ভোটের নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ