আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে এক শ্রমিককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্ত ব্যক্তি হলেন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা দিলজানি আনসারি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাকে দেশীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় একদল যুবক নির্যাতনের শিকার করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আনসারি গত ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর প্রায় ছয় মাস ম্যাঙ্গালুরুতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আসছেন। রোববার শহরের কুলুর এলাকায় চার যুবক তার পথ আটকে পরিচয়পত্র দেখানোর দাবি জানায়। তারা আনসারিকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে অভিযুক্ত করে। দিলজানি তার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও যুবকেরা তা মানেননি এবং তাকে মারধর শুরু করে। সংঘর্ষের সময় তাঁর মাথায় একটি বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়, যা গুরুতর আহতির কারণ হয়। স্থানীয় এক নারী তাকে উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় আনসারি থানায় অভিযোগ না দিয়ে বাড়ি ফিরে যান এবং বিষয়টি স্থানীয় নেতাদের জানান। পরে স্থানীয় নেতারা পুলিশকে বিষয়টি জানান।
পুলিশ তদন্তের পর নিশ্চিত করে যে, দিলজানি আনসারি প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক। পুলিশ চার যুবকের নাম সাগর, দানুশ, লালু রথিশ ও মোহন উল্লেখ করেছে। তারা একটি ডানপন্থি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই চার অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতীয় শ্রমিকরা প্রায়ই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন যেখানে তারা অন্য রাজ্যে কাজের জন্য গেলে সম্প্রদায় ভিত্তিক সন্দেহ ও নির্যাতনের শিকার হন। বিশেষ করে হিন্দুকেন্দ্রিক রাজ্যগুলোতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহের কারণে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরে এসেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করতে তল্লাশি চলছে। এছাড়া আহত শ্রমিকের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের জন্য স্থানীয় পুলিশ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অনুজাতীয় পরিচয় বা ধর্মের ভিত্তিতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি লেভেলে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এই ধরনের ঘটনা শ্রমিকদের মানসিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঘটনার তদারকি করছেন এবং সমাজে সমন্বয় ও সহনশীলতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।


