আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র সরকার আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রদান স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ভিসা আবেদন করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কনস্যুলার অফিসে জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়ে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, ভিসা প্রদান ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি বর্তমানে পুনর্মূল্যায়নের অধীনে রয়েছে। এই পুনর্মূল্যায়ন চলাকালীন নির্দিষ্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, যারা বিদেশি নাগরিক হলেও আমেরিকার সরকারি ত্রাণ বা সামাজিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাদের প্রবেশ সীমিত করাই সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার। তবে কতদিন এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
এ পদক্ষেপের পেছনে গত ৪ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ওই পোস্টে ১২০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে দেখানো হয় কোন দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশি নির্ভরশীল। তালিকায় বাংলাদেশ ১৯তম অবস্থানে রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের ৫৪.৮ শতাংশ সরকারি সুবিধা গ্রহণ করে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ও ভুটানও তালিকাভুক্ত হলেও ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাম নেই।
অন্য দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, মিশর, আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, ব্রাজিল, কিউবা, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেনের নাগরিকরাও এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনের আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা দিতে পারবেন না।
এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার ভিসা প্রত্যাশী শিক্ষার্থী, পর্যটক ও অভিবাসন প্রত্যাশীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভ্রমণ ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই স্থগিতাদেশ অভিবাসন নীতি, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার এবং কনস্যুলার প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়নের একটি অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন এবং কল্যাণভাতা গ্রহণের প্রবণতা কমানো না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।


