রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ক্রমিক নম্বর ৩৮১ থেকে ৪৮০ পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন কমিশন এই শুনানি গ্রহণ করছেন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলবে।
এর আগে বুধবার অনুষ্ঠিত পঞ্চম দিনের শুনানিতে মোট ১০০টি আপিলের নিষ্পত্তি করা হয়। ওইদিন কমিশন ৭৩টি আপিল মঞ্জুর করেন, ১৭টি আপিল নামঞ্জুর করেন এবং ১০টি আপিল বিভিন্ন কারণে অপেক্ষমাণ রাখেন। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুনানিকালে প্রার্থীদের দাখিল করা নথি, আইনগত যুক্তি এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, গত পাঁচ দিনে—শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত—মোট ৩৮০টি আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৭টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। অপরদিকে ৮১টি আপিল নামঞ্জুর বা বাতিল হয়েছে এবং ২৩টি আপিল এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে। অপেক্ষমাণ আপিলগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ অথবা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অনুপস্থিতির মতো বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আপিল শুনানি কার্যক্রম আগামী কয়েক দিনে ধাপে ধাপে শেষ করা হবে। শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি জুমার নামাজের পর বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ক্রমিক নম্বর ৪৮১ থেকে ৫১০ পর্যন্ত আপিল এবং অপেক্ষমাণ আপিলগুলোর শুনানি গ্রহণ করা হবে। এরপর শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ৫১১ থেকে ৬১০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ রোববার, ১৮ জানুয়ারি শেষ দিনে ৬১১ থেকে ৬৪৫ নম্বর আপিল এবং অবশিষ্ট অপেক্ষমাণ আপিলগুলোর নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এসব আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন। নির্বাচন আইন অনুযায়ী, কমিশনের এই আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে সারাদেশের ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র যাচাই করেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে বিভিন্ন কারণে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিলের কারণ হিসেবে নির্বাচন আইন অনুযায়ী যোগ্যতার ঘাটতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি, ঋণখেলাপি বা অন্যান্য আইনগত বাধার বিষয়গুলো উঠে আসে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পথ সুগম হবে। এরপর নির্বাচনী কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্বচ্ছতা ও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রতিটি আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিতর্কের সুযোগ না থাকে।


