খেলাধূলা ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর মধ্যে আগামী ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চলমান চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় শুরুতেই বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। আইসিসির দুই সদস্যের প্রতিনিধি দলের একজন সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় আলোচনায় অংশ নিতে পারেননি, ফলে লজিস্টিক ও আলোচনার ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ আজ শনিবার একাই ঢাকায় আসেন। তার সঙ্গে ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন জ্যেষ্ঠ আইসিসি কর্মকর্তারও আলোচনায় অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও, ভিসা সমস্যা কারণে তিনি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেননি। বিষয়টি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের শীতলতার প্রেক্ষাপটেও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, ভারতের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের জন্য বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকার আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বিবেচনায় এটি একটি যুক্তিসঙ্গত বিকল্প।
সহকর্মীর অনুপস্থিতিতে আলোচনার পুরো দায়িত্ব এখন এফগ্রেভের ওপর নির্ভর করছে। ব্রিটিশ পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো সমাধান না হলে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এই আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে আইসিসি ও বিসিবির যৌথ সিদ্ধান্ত এবং শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোকে খুব জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পেশাদার ক্রিকেট পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা না গেলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিলম্বিত বা পরিবর্তিত স্থানে আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এজন্য বিসিবি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন আইসিসির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং টুর্নামেন্টের নিরাপদ ও সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এই অচলাবস্থা সমাধান হলে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং প্রস্তুতি ও ম্যাচ পরিকল্পনা সুসংগতভাবে এগোতে পারবে। অন্যথায়, ভারতীয় গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে পরিবর্তন ছাড়া আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়বে।


