আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান সরকার দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ঘোষিত সমস্ত মৃত্যুদণ্ড বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এই ঘোষণা আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, তিনি ইরানের নেতৃত্বকে সম্মান জানাচ্ছেন যে তারা পূর্বে নির্ধারিত সমস্ত ফাঁসির কার্যক্রম বাতিল করেছে, যার সংখ্যা ৮০০-এর বেশি ছিল। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন, এই সিদ্ধান্তকে তিনি ‘ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন।
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেছিলেন যে বিক্ষোভ দমন কার্যক্রমে অতিরিক্ত কঠোরতা অবলম্বন করলে তা ‘গুরুতর পরিণতির’ কারণ হতে পারে। তার এই মন্তব্যের কিছু সময় পরে ইরানি কর্তৃপক্ষ সমস্ত মৃত্যুদণ্ড বাতিলের ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে ইরান সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্ত চূড়ান্ত দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ওপর থাকে।
ইরানে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট মূলত শুরু হয়েছিল ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে। ইরানের মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনের পর দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ধারা শুরু হয়। দেশটির বিভিন্ন শহরে শত শত মানুষ রাস্তায় নামেন এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতিসমূহ ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে প্রতিবাদ করেন।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ’র তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত চলমান বিক্ষোভে অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী। যদিও ইরানি সরকার নিহতের সংখ্যা আনুমানিক ২ হাজার হিসেবে স্বীকার করেছে। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ, সহিংসতা ও সংঘর্ষের কারণে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকশ’কে আটক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত দেশটির রাজনৈতিক অবস্থার সঙ্গে যুক্ত। সরকার হয়তো আন্তর্জাতিক চাপ ও দেশীয় অস্থিরতার কারণে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে কূটনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের ধন্যবাদ ইরানি সরকারের ওই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো ধারা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও স্বাধীন প্রতিবেদকরা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। দেশটির পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য সরকার ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিক্ষোভের সূত্রপাত থেকে ইরানি রিয়ালের দরপতন ও সরকারি নীতি সংক্রান্ত চাপ আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যেও এই ঘটনার কিছু প্রভাব পড়তে পারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেও বিক্ষোভ দমন অভিযান এখনো সীমিত আকারে চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সরকারকে শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে আহ্বান জানাচ্ছে।


