জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক সভায় গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবাররা দীর্ঘদিন ধরে বাবাহীন জীবনের কষ্ট এবং অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময় করেন এবং বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ হওয়া পিতার খোঁজ পাওয়ার অক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।
সভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, বাবাদের অনুপস্থিতি তাদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে। শিশু থেকে কিশোর বয়সী সন্তানরা তাদের বাবা সম্পর্কে কোনো স্মৃতি রাখেন না এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা বছরের পর বছর বাবার কোনো খোঁজ পাননি।
২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর গুম হওয়া সোহেল হোসেনের মেয়ে শাফা হোসেন জানান, “আমি তখন মাত্র দুই মাসের শিশু ছিলাম। আজ আমার বয়স ১৩ বছর, কিন্তু বাবার মুখ দেখার কোনো সুযোগ পাইনি। বাবার কোনো স্মৃতি নেই, তবুও আমরা বাবাকে ফেরত চাই।” তিনি বাবার ছবি হাতে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করার কথা উল্লেখ করেন, তবুও কোনো সাফল্য পাননি।
২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ কায়সার হোসেনের কন্যা লামিয়া আক্তার মিম বলেন, “আমি তখন তিন বছর বয়সী শিশু ছিলাম। আজ ১৩ বছর পার হলেও বাবার কোনো খোঁজ পাইনি। বাবার উপস্থিতি ছাড়া আমার জীবন অসম্পূর্ণ মনে হয়। বাবাকে ফেরত আনা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের জন্য দেশ স্বাধীনতার অর্থ সম্পূর্ণ নয়। আমরা এখনো বাবার সঙ্গে করতে চাওয়া অনেক কথা ও ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।”
সভায় উপস্থিত অন্যান্য পরিবারের সদস্যরাও দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ পিতার খোঁজ না পাওয়া এবং পরিবারের উপর এর প্রভাব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা জানান, অনিশ্চয়তার কারণে মানসিক চাপ, শিক্ষা ও সামাজিক জীবনে প্রভাব পড়েছে।
সভায় উপস্থিত নেতারা পরিবারদের অভিজ্ঞতা শোনেন এবং তাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। তারা পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা ও তথ্য প্রাপ্তি বিষয়ে সমাধানের উপায় খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখযোগ্য যে, সভায় গুম হওয়া বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবাররা সামাজিক ও মানসিক সহায়তা প্রাপ্তির পাশাপাশি আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অনিশ্চয়তার দূরীকরণ এবং নিখোঁজদের খোঁজ পাওয়ার জন্য কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।


