রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভাটি সকাল ১১টায় শুরু হয়।
সভায় সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে তাদের স্বজনদের গুম বা হত্যা করা হয়েছে। অনেকে জানাচ্ছেন, কিছু ব্যক্তিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আবার কেউ কেউ রাস্তা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। এসব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অনেকেরই এখনও নিশ্চিত তথ্য নেই যে নিখোঁজ বা নিহত ব্যক্তিদের শেষ অবস্থা কী।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা সরকারের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান। তারা জোর দেন, অতীতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় সংঘটিত এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।
মতবিনিময় সভার আয়োজনে সহযোগিতা করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং ‘মায়ের ডাক’ নামের দুটি সংগঠন। সভায় উপস্থিতরা মানবাধিকার সংরক্ষণ, তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণের বিষয়েও আলাপ করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এই ধরনের সভা নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এতে না শুধুমাত্র পরিবারগুলোকে তাদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে সহায়তা করা সম্ভব, বরং অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা ও প্রভাব নিয়ে সম্যক তথ্য সংগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়।
সভায় অংশ নেওয়া পরিবারের সদস্যরা বলেন, গুম ও হত্যার ঘটনায় এখনও অনেক তথ্য অজানা থাকায়, সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও ঘটনার ন্যায্য বিচারের জন্য রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেন, মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় দ্রুততা আনা সম্ভব হবে।
বিএনপি নেতৃত্বের মতে, এই ধরনের মতবিনিময় সভা শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং অতীতের সহিংসতার প্রভাব কমানোর প্রয়াস হিসাবেও দেখা উচিত। সভার শেষে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।


