রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ও একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ কর্তৃক গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপির নেতা শহীদদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তার প্রথম সফর শুরু করতে চেয়েছিলেন। রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পুষ্পমাল্য অর্পণের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে শান্তি রক্ষার স্বার্থে ওই কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এবং অন্য একটি রাজনৈতিক দল এটি আমাদের দুর্বলতা হিসেবে দেখেছে। কিন্তু এটি কোনো দুর্বলতা নয়, বরং আমাদের ভদ্রতার পরিচয়।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ও ওই রাজনৈতিক দল যেভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে এবং নানা কৌশলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে, বিএনপি তা থেকে সুফল গ্রহণ করবে না। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যারা গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। দেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সমালোচনার মধ্যদিয়ে বিভিন্ন দল তাদের অবস্থান দৃঢ় করছে। বিএনপির এই বক্তব্য রাজনীতির অঙ্গনে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই প্রতিক্রিয়া মূলত ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও নির্বাচন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেওয়া সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে। এছাড়া, রাজনৈতিক সমঝোতা ও ভোট পরিবেশে সমান সুযোগ তৈরি করার প্রসঙ্গও এই বক্তব্যে অন্তর্ভুক্ত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ভোটের পূর্ববর্তী এই ধরনের মন্তব্য ভোটার ও সাধারণ জনগণের মনোভাব ও রাজনৈতিক দৃঢ়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমন্বয়, শৃঙ্খলা এবং প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব বক্তব্যের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম, প্রতিক্রিয়া ও কৌশল জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এমন মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে, আগামী নির্বাচনের পরিবেশ, অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের প্রস্তুতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।


