রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচারের মাধ্যমে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। শনিবার রাজধানীর চিন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের ‘হল অফ ফেইমে’ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থেকেছেন। এই সময়ে অসংখ্য গুম-খুন, অপহরণ, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েও বিএনপির কোনো নেতাকর্মী রাজপথ ছাড়েননি। তিনি বলেন, “আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে, আবার কখনো তুঙ্গে উঠেছে। একই পরিবারের একজন গুম হলেও, অন্য সদস্যরা পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরও তীব্রতর করার শপথ নিয়ে দাঁড়ান।”
তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপির কর্মীরা আন্দোলনে কখনো কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত ভূমিকা ধারণ করেননি। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা নেওয়া নেতাকর্মীদের কারণে কোনো ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার দলকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদির লুনা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও গুমের ভুক্তভোগী হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি) এবং আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। সভার মূল লক্ষ্য ছিল আন্দোলনরত পরিবারের সঙ্গে নেতাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপন ও তাদের চলমান সমস্যার প্রতি সমর্থন জানানো।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সভা অনুষ্ঠিত হলো এমন সময়ে যখন বিরোধী দলগুলোর উপর নানা ধরনের চাপ এবং সমালোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারেক রহমানের এই বক্তব্য দলীয় ঐক্য এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখার সংকল্পের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সভা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে নেতাদের মতবিনিময় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোকে আরও শক্তিশালী করার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী, বিএনপির এই ধরণের উদ্যোগ দলীয় কর্মীদের মধ্যে মানসিক শক্তি বৃদ্ধি এবং রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের সভা দলের সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখার পাশাপাশি মানবাধিকার ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ঐতিহ্যের বিষয়ে গুরুত্বারোপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


