রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ও সম্প্রসারিত হচ্ছে

রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ও সম্প্রসারিত হচ্ছে

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পাকিস্তানকে তার দেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পরস্পরের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় এবং মস্কো ইসলামাবাদের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে।

রাশিয়ায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ফয়সাল নিয়াজ তিরমিজি মস্কোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। এরপর পুতিনের উদ্ধৃতি দিয়ে পাকিস্তানে রাশিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে যে, “বৃহত্তম আঞ্চলিক সংস্থা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পূর্ণ সদস্য পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং মানবিক সম্ভাবনার দিক থেকে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রয়েছে।”

রাষ্ট্রদূত তিরমিজি এই সময় রুশ প্রেসিডেন্টকে পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশের জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।

পুতিন আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে, বিশেষ করে বাণিজ্য, কূটনীতি, শিক্ষা, কৃষি, ওষুধ, রেলওয়ে, শিল্প, স্বাস্থ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে। তিনি মনে করান যে, পাকিস্তান রাশিয়ার সঙ্গে বহু ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্প এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা পরীক্ষা করছে।

ইতিহাস ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলী প্রমাণ করে, ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর মস্কো নতুন জ্বালানি বাজারের সন্ধান করছে। একই সময়ে ইসলামাবাদ তার আমদানি খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। ২০২৩ সালে পাকিস্তান প্রথমবার রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু করে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

দুটি দেশের সম্পর্ক কেবল অর্থনীতি বা বাণিজ্য পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; এই অংশীদারিত্ব কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হচ্ছে। দুই দেশের শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং গবেষণামূলক সহযোগিতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে পাকিস্তান ও রাশিয়া পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক ও কৌশলগত মানচিত্রে নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অংশীদারিত্ব দুই দেশের জন্যই আর্থিক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি, রাশিয়া-পাকিস্তান সম্পর্কের সম্প্রসারণ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক এবং চীন-রাশিয়া-পাকিস্তান তিনকোণীয় কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনাও এতে প্রভাবিত হতে পারে।

সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশের অনুষ্ঠানটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি পাকিস্তান এবং রাশিয়ার মধ্যে নতুন যৌথ উদ্যোগ, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ধরনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দুই দেশের জন্য পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি ও বাণিজ্য নীতি প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের সম্পর্কের এই সম্প্রসারণ আগামী কয়েক বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ