সারাদেশ ডেস্ক
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানকে ‘আপু’ সম্বোধন করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে একটি কলরেকর্ডে ইউএনওর প্রতিক্রিয়া ফাঁস হওয়ায় বিষয়টি জনসমক্ষে আলোচিত হয়।
ঘটনা ঘটে কালীগঞ্জ উপজেলার ‘রয়েল ফুটবল একাডেমি’র ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত চড়ুইভাতি অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানের চলাকালীন সময় আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি মেহেরবান মিঠু ইউএনওকে ফোন করেন। ফোনে মিঠু বলেন, “এক্ষুনি শেষ হয়ে যাবে, আপু।” এই সম্বোধন শোনার পর ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান প্রতিক্রিয়া জানান এবং বলেন, “আমি আপনার আপু নই, ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন।” এরপর তিনি উল্লেখ করেন, যারা অনুমতিসহ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলেন তারা রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার কথা বলেছিলেন।
কলরেকর্ডে দেখা যায়, ইউএনওর এমন প্রতিক্রিয়ার পর মিঠু দুঃখ প্রকাশ করেন এবং অনুষ্ঠান দ্রুত সমাপ্ত করা হয়।
ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাম’ সম্বোধন করার কোন আনুষ্ঠানিক বা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। ‘আপু’ শব্দটি সাধারণভাবে সম্মানসূচক হলেও ইউএনওর কঠোর প্রতিক্রিয়াকে কিছু অংশ ‘অহমিকা’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
রয়েল ফুটবল একাডেমির সহ-সভাপতি মেহেরবান মিঠু বলেন, “আমি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই ‘আপু’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম, কাউকে অপমান করার ইচ্ছা ছিল না। তবে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অনুষ্ঠান চলায় আমি দুঃখ প্রকাশ করেছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান বলেন, “অনুষ্ঠান গভীর রাত পর্যন্ত চলায় আমি সামান্য ক্ষুদ্ধ হয়েছিলাম। ‘আপু’ শব্দে রাগ করিনি।”
ঘটনাটি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, স্থানীয় আয়োজক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্বোধন নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কের এক উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি স্থানীয় অনুষ্ঠান আয়োজক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কলরেকর্ডের কারণে সাধারণ জনগণও সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ এবং সম্বোধন নিয়ে সচেতন হচ্ছে।


